শেখ মো. আবুল বাসার (যশোর): যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতনল খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির কন্যা লিতুন জিরা জন্মেছিলেন হাত-পা ছাড়া। চারপাশে যখন দীর্ঘশ্বাস আর করুণ দৃষ্টিতে সবাই তাকাতো, তখন ছোট্ট লিতুন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেছে নিয়েছিল আলোয় এগিয়ে যাওয়ার পথ।
এ বছর গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে পেয়েছে জিপিএ-৫। নেহালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে মুখ দিয়ে কলম ধরে লিখে সে অংশ নেয় পরীক্ষায়। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পরিবার, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব সবাই আছে আনন্দে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও লিতুন জিরা কখনো দমে যায়নি। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি সে পেয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অসামান্য কৃতিত্ব। তার সাংস্কৃতিক প্রতিভাও দুর্দান্ত- গান, আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা সবখানেই রয়েছে তার পদচিহ্ন। খুলনা বেতারে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল সে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে।
২০২০ সালে তার সাফল্য দেখে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহানের পক্ষ থেকে তাকে পাঁচ লাখ টাকার চেক ও শিক্ষা উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। সে সহপাঠীদের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম। ক্লাসে শুধু প্রথম নয়, পুরো স্কুলের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সে।
ফলাফল প্রকাশের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিতুন জিরা রিপোর্টার্স২৪কে বলে, আমি সমাজের বোঝা হতে চাই না। লেখাপড়া শিখে আমি মানুষের মতো মানুষ হয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করে সমাজের সেবা করতে চাই। আজ এসএসসির ফলাফলে আমি অত্যন্ত খুশি, আনন্দিত। এর জন্য আমার পিতা মাতা, সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী, বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। তারা সবসময় আমার পাশে ছিল।
লিতুনের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, লিতুন আমার কাছে বোঝা নয়, বরং তাকে নিয়ে আমি অহংকার করি। আজ এসএসসির জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরে আমি আনন্দিত, আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। ওর ভবিষ্যতের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।
লিতুন জিরার মা জাহানারা খাতুন বলেন, লিতুন জিরার আজকের এই ভালো ফলাফলের জন্য আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি, ওর জন্য সকলেই সব সময় দোয়া করেছেন। আমি সকলের কাছে ঋণী। সব সময় আপনারা তার পাশে থাকবেন এই দোয়া চাই।
লিতুনের সহপাঠী সজীব হোসেন জানায়, লিতুন জিরা আমার খুব কাছের বন্ধু। সেব অত্যন্ত মেধাবী। সে জিপিএ-৫ পাওয়াতে আমরা খুব খুশি। আমরা সকলেই সর্বদায় তার মঙ্গল কামনা করি।
গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, “লিতুন শুধু মেধাবী নয়, অনুপ্রেরণাও। তার লেখাপড়ার আগ্রহ এবং দক্ষতা অসাধারণ।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে আমি তার খোঁজখবর নিয়েছি। এত প্রতিকূলতার মাঝেও লিতুন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা আমাদের সকলের জন্য শিক্ষণীয়।”
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ