📍 রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, মূলত তিনটি বড় কারণেই এ বছর ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ হয়েছে।
শিক্ষা ঘাটতি, কঠিন প্রশ্ন ও কড়াকড়ি মূল্যায়ন
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের ফল খারাপ হওয়ার মূল তিনটি কারণ : মহামারি করোনা ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত ক্লাস না পাওয়া, গণিতসহ কিছু বিষয়ের প্রশ্ন ছিল তুলনামূলক কঠিন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে ছিল অতিরিক্ত কড়াকড়ি।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে চোখে পড়ার মতো
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ১০ লাখ ৬ হাজার ৫৫৪ জন। পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা গতবারের ৮৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩৮ হাজার ৮২৭ জন। ২০২৩ সালে যেখানে ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৫ জন, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জনে।
কোথায় কত পাস?
শিক্ষা বোর্ড অনুযায়ী পাসের হারের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেছে বরিশাল বোর্ড (৫৬.৩৮%) এবং সবচেয়ে ভালো করেছে রাজশাহী বোর্ড (৭৭.৬৩%)। অন্যান্য বোর্ডের পাসের হার: ঢাকা: ৬৭.৫১%, কুমিল্লা: ৬৩.৬০%, যশোর: ৭৩.৬৯%, চট্টগ্রাম: ৭২.০৭%, দিনাজপুর: ৬৭.০৩%, ময়মনসিংহ: ৫৮.২২%।
শিক্ষার্থীরা ক্লাস পেয়েছে কম
২০২০ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তারা শিক্ষাজীবনের অধিকাংশ সময়েই করোনার কারণে অনিয়মিত ছিল। টানা দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেও নিয়মিত ক্লাস হয়নি।
গণিতে সর্বাধিক বিপর্যয়
সব বোর্ডেই গণিত বিষয়ে পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। যেমন, ঢাকা বোর্ডে গণিতে পাসের হার ৭৫.১৪%, যেখানে বাংলায় ৯৭% এবং ইংরেজিতে প্রায় ৮৮%। গণিত সবার জন্য বাধ্যতামূলক হওয়ায় এ খাতে খারাপ ফল সার্বিক ফলাফলকে নিচে নামিয়েছে।
কড়াকড়ি মূল্যায়নের অভিযোগ
শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এ বছর উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো নমনীয়তা দেখানো হয়নি। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ছিল পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা, পাসের হার কম বা বেশি রাখার কোনো নির্দেশনা ছিল না।"
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরাই এগিয়ে
মেয়েদের পাসের হার প্রায় ৭১%, যেখানে ছেলেদের ৬৫% এর বেশি। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যেও মেয়েদের সংখ্যা বেশি—৬৬ হাজার ৭৮০ জন ছাত্রী এবং ৫৮ হাজার ২৩৮ জন ছাত্র।
শতভাগ পাস ও ফেল করা প্রতিষ্ঠানের চিত্র
সারা দেশে ৩০ হাজার ৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯৮৪টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে, যা গতবার ছিল ২ হাজার ৯৬৮টি।
একইসঙ্গে, এবার ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যা গতবারের চেয়ে ৮৩টি বেশি।
বিশ্লেষকের মত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রতিটি শ্রেণিতে যথাযথ দক্ষতা অর্জন করছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। পাস-ফেল নয়, দক্ষতা অর্জনেই জোর দিতে হবে।”
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস