📍 পঞ্চগড় প্রতিনিধি | রিপোর্টার্স২৪
ছোটবেলাতেই কেউ হারিয়েছে বাবা, কেউ মাকে। আবার কেউ নিখোঁজ হয়েছিল পরিবারের কাছ থেকে। এমন অনিশ্চিত জীবন থেকে উঠে আসা পঞ্চগড়ের আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে বেড়ে ওঠা ১২ জন কিশোর এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। সবার চোখেই নতুন জীবনের স্বপ্ন, নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়।
পথহারা থেকে আলোর পথে
এসএসসি উত্তীর্ণ হওয়া ১২ কিশোর হলেন: কবির হোসেন হৃদয়, সাব্বির হোসেন, সফিকুল ইসলাম, পারভেজ রানা, আব্দুল মজিদ, সুজন আলী, রাকিবুল হাসান, বরজুল রহমান বায়েজিদ, তাপস চন্দ্র রায়, জিহাদ মিয়া, আল আমিন ও হৃদয় কুমার।
তারা বেড়ে উঠেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জলাপাড়া গ্রামে অবস্থিত আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে। এখান থেকেই তারা এবছর পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং সবাই উত্তীর্ণ হয়।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান অনাথ, পথশিশু, বঞ্চিত ও পরিবারহীন শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষা দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ করে দিচ্ছে।
হারিয়ে যাওয়া, ফিরে পাওয়া
জিপিএ ৪.৯৬ পাওয়া কবির হোসেন হৃদয় বলেন, “বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর অবহেলার শিকার হয়ে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলাম। পরে এক রেলস্টেশন থেকে আমাকে শিশু নগরীতে আনা হয়। এসএসসি পাস করব— এটা কল্পনাও করিনি।”
জিপিএ ৪.৫৪ পাওয়া আব্দুল মজিদ বলেন, “ছোটবেলায় বাবাকে হারাই। দিনাজপুরের কোথাও আমার বাড়ি, এটুকুই মনে আছে। এখান থেকেই শিক্ষা জীবন শুরু হয়, আজ এসএসসি পাস করেছি।”
সাব্বির হোসেন বলেন, “আমি ছোটবেলায় পরিবার থেকে হারিয়ে যাই। জেলাটাও মনে নেই। বাবার নাম মারুফ, মায়ের নাম ছবি আক্তার, এটুকুই মনে আছে।”
জিপিএ ৪.৮২ পাওয়া হৃদয় কুমার বলেন, “আমার আসল বাড়ি লালমনিরহাটে। ছোটবেলায় হারিয়ে যাই। পরিবার খুঁজে পেলেও আমি এখানেই থেকে যাই। এখান থেকেই এসএসসি পাস করেছি।”
শিশু নগরীর অভিভাবকরা
শিশু নগরীর সমাজকর্মী ইউসুফ বলেন, “প্রথমে আমরা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দিই। এরপর তারা স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ে।”
কৃষি কর্মকর্তা সেলিম প্রধান জানান, “১৮ বছর পূর্ণ হলে কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।”
শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দিপক কুমার রায় বলেন, “এই শিশুদের আলোর পথে ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছে আহছানিয়া মিশন। বর্তমানে ১৬০ জন শিশু রয়েছে আমাদের কেন্দ্রে। এবার ১২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং সবাই উত্তীর্ণ হয়।”
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস