রিপোর্টার্স ডেস্ক: চব্বিশের ৫ই আগস্টের পর মাত্র ১০ মাসের মাথায় বাংলাদেশে পলাতক আওয়ামী জাহিলিয়াতের বিকল্প শক্তি তৈরি করে ফেলেছে ভারত।
যেহেতু বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তি দাঁড়িয়ে গেছে, সেহেতু বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কতটা সংকটাপন্ন, তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। এ কারণেই ভারতের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন মোকাবেলায় আরেকটি বিকল্প শক্তি খুঁজে ফিরছে দেশপ্রেমিক জনতা।
বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের মধ্যে সেই বিকল্প শক্তির তালাশ করছেন দেশের আমজনতা। ইসলামী দলগুলোও মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশের জনগণ ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য চাইছে ।
এবিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ব্যবস্থা যেন আল্লাহ করে দেন এই দোয়াই করি। দেশের ছাত্র-জনতা বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে; সে আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে দেশবাসীর কাছেও দোয়া চেয়েছিলেন জামায়াত আমির।
বিগত ১৮ বছরের আওয়ামী জাহিলিয়াতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দলগুলো। আবারও যদি ভারতের মদদে দাঁড়িয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের বিকল্প ফ্যা.সিবাদী শক্তি ক্ষমতায় বসে যায়, তাহলে এবারে ইসলামপন্থীদের নির্মূল করাই হবে তাদের প্রথম এবং প্রধান এজেন্ডা।
এ কারণেই দেশের ইসলামী দলগুলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঐক্যের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। একসময় জামায়াতের কট্টর সমালোচক হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও এবার মত পাল্টে ঐক্যের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।
দেশের ৬ কোটি তরুন এবং ১ কোটি রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীও তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভরতা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে ইসলামপন্থীদের দিকেই তাকিয়ে আছেন।
এজন্য বাংলাদেশের বড়-ছোট-মাঝারি ৫০টি ইসলামী দলের ঐক্য কামনা করছেন ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের অতন্দ্রপ্রহরী আপামর জনগণ।
দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি ৬ কোটি তরুন এবং ১ কোটি রেমিটেন্স যোদ্ধাও তাই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে ইসলামী দলগুলোর শীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় জমাটবাধা ঐক্যের দিকে।
দেশের ৫০টি ইসলামী দল ঐক্যবদ্ধভাবে এক কাতারে দাঁড়িয়ে গেলেই দেশের ৬ কোটি তরুন এবং ১ কোটি রেমিটেন্স যোদ্ধা ‘গণকাঙ্খিত’ নতুন বাংলাদেশের সোনালী ভবিষ্যৎ বিনির্মানে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তি এখন ছয় কোটি। তাদের প্রত্যেকের বয়স ২৫ বছরের মধ্যে। ৫ই আগস্টের বিপ্লবের নায়ক মূলত এই তরুণরাই। তারুণ্যের এই জনশক্তিই হচ্ছে বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। তারা যেদিকে যাবে সেদিকেই রাষ্ট্রের মোড় পরিবর্তিত হবে।
বাংলাদেশের ১ কোটি রেমিটেন্স যোদ্ধা এখন অর্থনীতির প্রাণশক্তি। সেক্ষেত্রে এই ১ কোটি রেমিটেন্স যোদ্ধা সবসময় দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আর সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পেতে চায়। এজন্য তারা জন্য ইসলামপন্থীদের ঐক্যের দিকেই তাকিয়ে আছে।
বাংলাদেশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট-বড় ইসলামী দলের সংখ্যা ৫০টি। এ ৫০টি দলের মধ্যে নির্বাচনমুখী সবচেয়ে বড় ও গুছানো দল হলো জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের নেতৃত্বে বাঁকী ইসলামী দলগুলো জোটবদ্ধভাবে এক নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে নামলে, তারুণ্যের শক্তি সেই দিকেই ঝুঁকবে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তখন রেমিটেন্স যোদ্ধারাও তাদের প্রতি আস্থা রাখার ভরসা পাবেন।
গত বছর আগস্টেই খেলাফত মজলিসসহ অধিকাংশ ধর্মভিত্তিক দল বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে।
গত ২৯ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খেলাফতের সম্মেলনে যোগ দিয়ে জামায়াতের আমির বলেছিলেন, ইসলামি দলগুলোর মাথায় আর কেউ কাঁঠাল ভেঙে খেতে পারবে না।
গত ২১ জানুয়ারি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছে ঐক্যের বিষয়ে।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাঁকি ইসলামী দলগুলো নির্বাচনমুখী হলেও তারা এখনো গোছালো নয়। এলোমেলো এবং অনেকটা ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত এই ধারাটি সাধারণত মাদরাসার ছাত্রদের নিয়ে গঠিত ও পরিচালিত।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির মানুষগুলো কওমী মাদ্রাসাগুলোতে ইসলামী জ্ঞানচর্চার যে ধারা জারি রেখেছে তা এখন বেশ শক্তি অর্জন করেছে। এ গ্রুপগুলোর সকলেই দেওবন্দী ও কওমী ধারার আলেম হিসেবে পরিচিত। এই কওমী ঘরানার ১৪টি উপদল বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
কওমী ঘরানার এসব উপদলের প্রত্যেকটিতে একজন করে খ্যাতিমান আলেম দলের প্রধান নেতৃত্বে বসে আছেন। তাদের রাজনৈতিক শক্তি তেমন না থাকলেও তারা আধ্যাত্মিক শক্তিতে বলীয়ান। এজন্য তারা সংঘঠিত হলে ভোটের মাঠে ব[ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কওমী ঘরানার ১৪টি উপদলের মধ্যে তাবলিগ জামাত আবার দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটা দেওবন্দপন্থী তাবলিগ জামাত, অন্যটি সাদ কান্দলভিপন্থী তাবলিগ জামাত ।
ইসলামী সেন্টিমেন্টের আরেক বড় শক্তি হেফাজতে ইসলামও দুই ভাগে বিভক্ত। হেফাজতে ইসলাম (মুহিব্বুল্লাহ বাবু নগরী) এবং বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম (আনাস মাদানী)।
হেফাজতে ইসলামের ঘনিষ্ঠ কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলো ৫ আগস্টের পর থেকেই আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার কথা বলছে।
কওমী ঘরানার এবং পীর-মুরীদি ধারার ২০ টি ইসলামী উপদলের মধ্যে, ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই), জমিয়তে ইসলাম (ওয়াক্কাস), জমিয়তে ইসলাম (নূর হোসাইন কাসেমী), খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট (আজিজুল হক), ইসলামী ঐক্যজোট (আমিনি), ইসলামী ঐক্যজোট (মেসবাহুর রহমান), ইসলামী ঐক্যজোট (ইজহারুল ইসলাম),নেজামে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস উল্লেখযোগ্য।
ইসলামপন্থী এই উপদলগুলো বাংলাদেশের নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সক্রিয়। তাই এদেরকে সংঘঠিত এবং আরো সক্রিয় করার মাধ্যমে সামনের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার দৃঢ় শপথের প্রত্যাশা করছেন দেশপ্রেমিক জনতা।
[এফ শাহজাহান কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক]
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ