| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

টাকার বিনিময়ে কনে দেখাতে না পারায় প্রাণ গেল ঘটকের

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৩, ২০২৫ ইং | ১২:২০:৩৬:অপরাহ্ন  |  ১৭৩৮৮২৩ বার পঠিত
টাকার বিনিময়ে কনে দেখাতে না পারায় প্রাণ গেল ঘটকের
ছবির ক্যাপশন: টাকার বিনিময়ে কনে দেখাতে না পারায় প্রাণ গেল ঘটকের

চাঁদপুর প্রতিনিধি: দুই দফায় ১০ হাজার টাকা দিয়ে কনে দেখতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে মারধর ও পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে ঘটক হাবিব উল্লাহকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বর মো. কামাল মীরার বিরুদ্ধে। ঘটনার দুইদিনের মধ্যে পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

রোববার (১৩ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

পুলিশের দেয়া তথ্যে জানাগেছে, ১১ জুলাই বেলা ১১টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউপির গোপালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পুকুরের মধ্যে একজন পুরুষ মানুষের মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় মো. হাবিব উল্লাহ নামে এক ব্যক্তির মৃরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করে।

প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত হাবিব উল্লাহ পরিচয় সনাক্ত করা না গেলেও পরে স্থানীয় লোকজন এসে জানায় মৃত ব্যক্তির নাম হাবিব উল্লাহ। তিনি পুটিয়ারপাড় এলাকার মনোয়ারা বেগম মনু এর স্বামী। পরবর্তীতে তাহাদের পরিবারের লোকজনকে সংবাদ দিলে তাহারা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ সনাক্ত করে এবং মৃতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলার এজাহার দিলে মতলব উত্তর থানায় এই মামলা রুজু হয়।

মামলার রুজু হওয়ার পর সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল কবির এর তত্ত্বাবধানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকের তত্ত্বাবধানে পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় একটানা ২১ ঘন্টা নিরবচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করিয়া হাবিব উল্লাহ হত্যাকান্ডে জড়িত কামাল মীরাকে গ্রেপ্তার করে।

কামাল মীরা বরিশাল জেলার চরমোনাই রাজারচর গ্রামের মৃত খালেক মীরার ছেলে।

পুলিশ জানায়, আসামীকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় মৃত হাবিব উল্লাহ সাথে তার ৩ থেকে ৪ মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মদনপুর ইউনিয়নের মুরাদপুর এলাকায় চায়ের দোকানে আড্ডাস্থলে উভয়ের পারস্পরিক পরিচয় হয়। মৃত হাবিব উল্লাহ যাত্রাবাড়ী এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত এবং আসামী কামাল মীরা ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় একটি প্রেস এর কারখানায় নৈশ প্রহরীর কাজ করত।

আসামী কামাল মীরার প্রথম স্ত্রী তার সংসার ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সে দ্বিতীয় বিবাহ করার জন্য মনস্থির করে। তখন হাবিব উল্লাহ’র সাথে পরিচয় হলে তাকে দ্বিতীয় বিবাহ করানোর মতো মেয়ে তার কাছে আছে বলিয়া প্রস্তাব করেন। সেই সুবাদে আনুমানিক এক মাসে আগে মৃত হাবিব উল্লাহ তার কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা নেয় এবং গত ১০ জুলাই হাবিব উল্লাহ মতলব উত্তর থানাধীন তার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় আসামী কামাল মীরাকে মেয়ে দেখানোর কথা বলে পুনরায় নগদ ৪ হাজার টাকা নেয় এবং তারা উভয়ই বিকেলের দিকে মুরাদপুর এলাকা থেকে মতলব উত্তর থানা এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে সন্ধ্যার সময় প্রথমে শাহ্ সোলেমান লেংটার মাজারে আসে।

মাজারে অনেকটা সময় ঘুরাঘুরি করার পর আসামী কামাল মীরা মৃত হাবিব উল্লাহকে কখন মেয়ে দেখতে যাবে এই কথা বলে তাগিদ দিলে মৃত হাবিব উল্লাহ আসামীকে নিয়ে রাত অনুমান ১১টার দিকে গোপালকান্দি বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পুকুর পাড়ে নিয়ে আসে। সেখানে বসে তারা উভয়ে গল্প করার সময় হাবিব উল্লাহ তাদের সাথে থাকা মোবাইল বন্ধ করে দেয়। উভয়ের মধ্যে পুকুরের পাকা সিঁড়ির উপর ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই ধস্তাধস্তির ফলে তারা উভয়ই পাকা সিঁড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে মুখমন্ডল সহ শরীরে জখম প্রাপ্ত হয়। একপর্যায়ে তাহারা উভয়ই পানিতে পড়ে যায়।

আসামী কামাল মীরা হাবিব উল্লাহকে অর্তকিত তলপেটে ও অন্ডকোষ বরাবর লাথি মারলে হাবিব উল্লাহ যখন একটু দূর্বল হয়ে যায় তখন আসামী কামাল মীরা হাবিব উল্লাহকে পানিতে চুবিয়ে ধরে। এই সময় মৃত হাবিব উল্লাহ আসামীর ডান হাতের দুইটি আঙ্গুলে কামড় দিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে হাবিব উল্লাহ নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামী সাঁতরে পুকুরের অপর প্রান্ত দিয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন কদমতলী নামক এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়।

পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পুলিশ প্রথমে হত্যার কোন সূত্র পায়নি। পরে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে মতলব উত্তর থানা পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।



রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪