রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অবিস্মরণীয় দিন ১৯ জুলাই। ২০১২ সালের এই দিনে পৃথিবীকে চিরবিদায় জানান বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ। আজ তাঁর মৃত্যুর ১৩ বছর।
সময়ের ব্যবধান যতই বাড়ছে, পাঠকের হৃদয়ে তার উপস্থিতি যেন ততটাই গভীর ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সাহিত্যে, নাটকে ও চলচ্চিত্রে যিনি ছিলেন একক আধিপত্যের প্রতীক—সেই হুমায়ূন আহমেদ সাধারণ মানুষের জীবনে নিয়ে এসেছিলেন অসাধারণ ভাষা, কল্পনা ও সংবেদনশীলতার আলোড়ন।
নাটক, চলচ্চিত্র ও সাহিত্যে তাঁর সৃষ্টির পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে মৃত্যুর এক যুগ পরও বইমেলায় বিক্রির শীর্ষে থাকে তাঁর বই। নন্দিত নরকে, মেঘ বৃষ্টি ও ভালবাসা, তিথির নীল তোয়ালে থেকে দেয়াল—প্রতিটি বই পাঠকের কাছে আজও জীবনের রস, হাসি, বেদনা ও রহস্যের এক অনন্য ভুবন।
তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র—আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, ঘেটুপুত্র কমলা—আজও দর্শক হৃদয়ে বেঁচে থাকে জীবন্ত আবেগ হয়ে। ছোটপর্দার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন যুগান্তকারী নির্মাতা। বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবার নাটকগুলো আজও দর্শকের মন জুড়িয়ে দেয় হাসি, প্রেম ও বেদনার ছোঁয়ায়।
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে জমে ওঠে তাঁর স্মরণানুষ্ঠান। ভোর থেকে শুরু হয় কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা আয়োজন। লিচুতলার ছায়ায় দাঁড়িয়ে সাহিত্যপ্রেমীরা অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রিয় হুমায়ূনকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া হুমায়ূন আহমেদের বাবা ছিলেন শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে পুরোপুরি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৮৩ সালে নাটক নির্মাণে হাত দেন ‘প্রথম প্রহর’ দিয়ে, আর ১৯৯৪ সালে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে ‘আগুনের পরশমণি’ দিয়ে।
জীবদ্দশায় তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে তিনি ছিলেন ‘জনমানুষের মানুষ’। মৃত্যুর পরও সেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কোনো অংশে কমেনি—বরং তা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে সময়ের পরতে পরতে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস