বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরে প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতেন নার্সিং পাস করা শামছুন্নাহার বন্যা (২২)। এরপর দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের জন্য চাপ দিলেও রাজি হননি প্রেমিক নাইম। অবশেষে প্রতারণার শিকার হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বন্যা। পুলিশ ঘটনার পর নাইমকে হেফাজতে নিয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
বন্যা বেনাপোলের রঘুনাথপুর গ্রামের হারুন অর রশিদের মেয়ে। নাইম সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের পর তারা পালবাড়ি মোড়ের একটি বাসায় ভাড়া থেকে দাম্পত্য জীবনের মতো বসবাস করছিলেন। তবে বাড়িওয়ালাও জানতেন না তারা বিবাহিত নন। নাইম অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজারের ‘অ্যামোটক বিডি’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বন্যা ছিলেন নার্সিং পাস করা।
পুলিশ হেফাজতে থাকা নাইম জানায়, বন্যা বিয়ের জন্য বারবার চাপ দিতেন। কিন্তু চাকরির স্থায়িত্ব না পাওয়া এবং ছোট বোনদের বিয়ে না হওয়ায় তিনি প্রস্তাব এড়িয়ে যেতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বন্যা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে হতাশ হন। শনিবার সকালে তিনি নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
ঘটনার সময় নাইম বাসাতেই ছিলেন। তিনি দ্রুত বন্যাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকেই পুলিশ নাইমকে হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। বন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স ২৪/ প্রীতিলতা