রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে উচ্ছ্বাস। মনোনয়ন বিতরণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পুরুষ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রাকসু নিয়ে আগ্রহ কম নয়।
বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. নিশা আক্তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রথম মনোনয়নপত্র তুলেছেন। রাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ ও পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেন এক সাক্ষাৎকারে।
নিশা বলেন, “রাকসু শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা নানামুখী সমস্যায় ভোগেন। তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের কণ্ঠস্বর হয়েই আমি রাকসুতে অংশ নিচ্ছি।”
নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ কী হবে — জানতে চাইলে নিশা বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের সংকট, ক্যান্টিন সমস্যা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করবো। পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব বিকাশে রাকসু হবে আমার প্রধান অঙ্গীকার। আমি শুধু নারীদের প্রতিনিধি নই, পুরুষ শিক্ষার্থীদেরও সহযোগী হয়ে সমানভাবে কাজ করবো।”
নিশা উল্লেখ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতা, ইভটিজিং, মেস মালিকদের হয়রানি, প্রসূতি শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার অভাবসহ নানা সমস্যায় ভোগেন। মেডিকেল সেন্টারে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ নেই, হলের পাশে নেই ফার্মেসি বা স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন। এসব সমস্যা সমাধানই হবে তার প্রথম অঙ্গীকার।
রাকসুতে নারীদের অনাগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নারী শিক্ষার্থীরা রাকসুকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম মনে করেন। সাইবার বুলিংয়ের ভয়ে অনেকে প্রচারণায় আসতে চান না। মেয়েদের অংশগ্রহণ বিদ্রূপের চোখে দেখা হয়, যা পরিবারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
নিশার মতে, রাকসুতে নারীরা নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করবেন, যা পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।
নিশা আক্তারের ঘোষিত প্রধান ইশতেহারসমূহঃ
১. আবাসিক হলের সংকট নিরসন, রিডিং রুম, ভেন্ডিং মেশিন ও ওয়াশিং মেশিনের সমস্যা সমাধান।
২. মেডিকেল সেন্টার সংস্কার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ।
৩. কলা অনুষদসহ বিভিন্ন অনুষদে ক্লাসরুম সংকট নিরসন।
৪. নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
৫. সক্রিয় নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন ও নারীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরি।
এস