| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কী বলেছেন ববি হাজ্জাজ? কেন এত বিতর্ক

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৯, ২০২৬ ইং | ২২:১৩:৫৬:অপরাহ্ন  |  ২২৩ বার পঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কী বলেছেন ববি হাজ্জাজ? কেন এত বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার: ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের করা একটি মন্তব্য বড়োসড়ো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর জেরে ঢাবিতে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখপ্রকাশও করেছেন।

সম্প্রতি ‘SameerScane’ নামে একটি পডকাস্টে অংশ নেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যে পরিমাণ গবেষণা করে, তার ‘কানাকড়িও’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত অর্থে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বা কোচিং সেন্টারের মতো পরিচালিত হচ্ছে।’

পডকাস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয় দুটো কাজ করার জন্য। একটা হলো- নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা, তারপর জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। এ দুটো সিমালটেনিয়াসলি (একযোগে) করার জন্য ইউনিভার্সিটি তৈরি হয়। তারপর শতক্ষণিক বছর আগে কিছু জায়গায় এটা মডিফাই করা হয় যে, আচ্ছা সব ইউনিভার্সিটি তো আসলে ভালো ইউনিভার্সিটি না, কিছু ইউনিভার্সিটি আসলে কোচিং সেন্টার। কিন্তু ওরা নিজেদের ইউনিভার্সিটি বলতে চায়। তাহলে চলো ওদের জন্য একটা নতুন নামকরণ করি। লাস্ট ৪০-৫০ ইয়ার্স এটাকে নামকরণ করা হয় টিচিং ইউনিভার্সিটি। এটা আসলে কোচিং ইউনিভার্সিটি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সেইম কোচিং ইউনিভার্সিটি, আমি বলি কোচিং সেন্টার আসল নাম হলো টিচিং ইউনিভার্সিটি। এগুলো টিচিং ইউনিভার্সিটি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন অরিজিন হয় তখন আইডিয়াটা ছিল যে এটা রূপান্তরিত হবে প্রপার ইউনিভার্সিটিতে। আনফরচুনেটলি এটা রূপান্তর হয়নি। আজকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি- ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে পরিমাণ গবেষণা করে তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না। যেখানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টেট সাবসিডাইজড। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ১০০ উপরে মেজর (বিভাগ) আছে যেগুলো সার্টিফিকেট প্রদান করে।’

তিনি বলেন, ‘সেই জায়গা থেকে ব্র্যাক এবং নর্থ সাউথ দুইটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, তাদের ডিপার্টমেন্ট আছে বোধহয় ছয়টা কি সাতটা। তারা অনেক বেশি মানে বাই মার্জিনস, বেশি গবেষণা করে।’

গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং প্লেজারিজম নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি গবেষণা তো করেই না, যা দুই একটা পাবলিশ পাবলিশ করে পুরাই প্লেজারাইজড। মানে ফুল প্লেজারাইজড।  বিগত দিনগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটা হয়েছে। ফুল পেপার প্লেজারাইজ করে নিজেরাই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিশ করেছে। বিদেশি কোন ভালো জার্নাল তো পাবলিশ করবে না। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালে পাবলিশ করেছে। ধরা পড়েছে, ধরা পড়ার পর প্রমোশন পেয়েছে। এরকম অনেক দৃষ্টান্ত আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।’

এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ‘একটা ভিসি বলেছিলেন না, ওই যে ১০ টাকায় চা, সিঙ্গারা, সিগারেট পাওয়া যায় কি না। আমি এখন ভালো মনে করতে পারছি না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি আসলে ওই কোয়ালিটির রয়ে গেছে। লোকজন মন খারাপ করবে আমার কথা শুনে। বাট দ্যাট দ্য কেইস।’

ব্যস, এই বক্তব্যেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ। শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ৬টায় টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। সেখান থেকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ওঠে। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি করেছিল। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় ববি হাজ্জাতের বক্তব্যে।

বিতর্কের মুখে অবশেষে শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ববি হাজ্জাজ, দুঃখপ্রকাশও করেছেন। পাশাপাশি তার বক্তব্যকে ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪