আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : প্রবল ঝড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির কারণে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করা ৩২ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে আটক করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনায়, বাংলাদেশেও আটক হয়েছেন ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। মৎস্যজীবীদের মানবিক কারণে দ্রুত মুক্তির জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে আবেদন জানিয়েছে ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম )।
মাসুম-এর সচিব কিরীটি রায় এই আবেদনে বলেছেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে দুটি পৃথক ঘটনায় ১৩ জন এবং ১৯ জন করে মোট ৩২ জন বাংলাদেশী মৎস্যজীবী ভারতীয় কোস্ট গার্ড এবং সুন্দরবন উপকূলীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। ফ্রেজারগঞ্জ ও সুন্দরবন উপকূলীয় থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মৎস্যজীবীরা পথ হারিয়ে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না।
একইভাবে, গত ১৫ জুলাই দুটি ভারতীয় মাছ ধরার নৌকা ঝড়-বৃষ্টিতে পথ হারিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। নৌকা দুটিতে থাকা ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে মংলা থানা গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তারা বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী আছেন।
মাসুম তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই মৎস্যজীবীরা অত্যন্ত দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য। তাদের জীবিকা সম্পূর্ণরূপে সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল। প্রকৃতির প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে কঠোর অপরাধীর মতো আচরণ করা হচ্ছে।
অথচ, ২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকে (MoU) মৎস্যজীবীদের অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারী সংস্থাটি ভারত ও বাংলাদেশ উভয় সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানায়। তা হলো- ১. অবিলম্বে উভয় দেশের আটক সকল মৎস্যজীবীকে মুক্তি দেওয়া হোক।
২. ২০১৫ সালের সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি মানবিক এবং দ্রুত-প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল তৈরি করা হোক।
৩. আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এই ধরনের ঘটনায় সহানুভূতিশীল আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে দরিদ্র মৎস্যজীবীরা অযথা হয়রানির শিকার না হন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের প্রতি মানবিক আচরণ অপরিহার্য।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব