জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনার একটি শাখানদী। এ নদীর উপর দিয়ে ১৩টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের পারাপারের জন্য এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে নাংলা বাজার-সংলগ্ন স্থানে একটি সাঁকো নির্মাণ করেছে।
বর্তমানে বাঁশ-কাঠের তৈরি সাঁকোটি ১৩ গ্রামের ২০- ২৫ হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই দাবিটি পুরন হয়নি। যেকারণে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিধিন হাজার হাজার মানুষ পরাপার হচ্ছে।
এলাবাসী জানান, যমুনার শাখা নদের ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণ না হয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে পিছিয়ে পড়াসহ কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা ।
নাংলা গ্রামের সাইফুল্লাহ বলেন, মাদারগঞ্জের অনেক জায়গায় ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়লেও একটি মাত্র সেতুর অভাবে ১৩টি গ্রাম অবহেলিত। কৃষিনির্ভর গ্রামে রকমারী কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে ।
কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। এলাকাবাসী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও গাড়ি-ঘোড়া চলতে না পারায় কৃষি পণ্য ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকরা ।
জানা যায়, যমুনার শাখানদীর ওপর স্থানীয় জনগণ নিজেদের উদ্যোগে ২০২৩ সালে প্রথম বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেন। প্রতিবছরই সাঁকোটি সংস্কার করা হয়েছে।
গত জুন মাসেও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়। এলাকাবাসীর অর্থায়নে সাঁকোটি মেরামত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সাঁকো নির্মাণের আগে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতেন নাংলা, আতামারী, সোনারুপাড়া, বটতলা, কাইজের চর, ফুলজোড়, জাওনের চর, উত্তর পাশে দ্বীপচর, গাবেরগ্রাম ও পূর্ব সুখনগরী এবং পশ্চিম পাশে নাদাগামী, হাজীপাড়া ও বিষেরচর গ্রামের হাজার মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, উপজেলা শহর ও হাটবাজারে যেতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি পার হতে হচ্ছে । এ ছাড়া বগুড়ার জেলার সারিয়াকান্দী উপজেলার শোনপচা, নান্দিনা চর, ডাকাতমারী,ধারাভর্ষা ও শংকরপুর গ্রামের মানুষও এই রাস্তায় চলাচল করে থাকেন।
জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় যমুনা নদী থেকে এই শাখাটির সৃষ্টি হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছরেও এই নদীর উপর কোন সেতু নির্মাণ হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে যাওয়ায় নৌকাও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যেকারণে গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়।
সোনারুপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদ জানান, একটি মাত্র সেতুর অভাবে অন্তত কেউ রুটি গ্রামের ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর ভোগের মধ্য দিয়ে বাঁশের সাঁকো পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নবাগত উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান , আমি মাত্র কিছুদিন আগে মাদারগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেছি। সরেজমিন পরিদর্শন করে যদি ওইখানে সেতুর প্রয়োজন হয়।
তাহলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব