রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:
ফৌজদারি মামলায় সমন ও ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) জারি নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জালিয়াতি ঠেকাতে পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তন আসছে। এবার থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সমন ও ওয়ারেন্ট পাঠানো হবে। এতে ভুয়া ওয়ারেন্টে হয়রানি বন্ধ হবে এবং সমন পৌঁছানোয় যে জটিলতা ছিল, তাও কেটে যাবে।
জানা গেছে, পুলিশের ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিডিএমএস) বিচারক ও সরকারি আইন কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সফটওয়্যারে পরিবর্তনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর বিচারকরা সরাসরি সিডিএমএসে এফআইআর, তদন্ত প্রতিবেদন, চার্জশিটসহ মামলার যাবতীয় নথি দেখতে পারবেন। সমন ও ওয়ারেন্টও সেখানেই দাখিল হবে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় তা সরাসরি পৌঁছে যাবে।
অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “প্রক্রিয়ার টেকনিক্যাল কাজ চলছে। দ্রুতই এটি চালু হলে বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমবে।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি হবে নতুন বাংলাদেশ গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিচারকাজ দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।”
আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ব্যবস্থায় সমন চেপে রাখা, জাল তথ্য দাখিল করে জামিন নেওয়া কিংবা ভুয়া ওয়ারেন্ট জারি করা—এসব অনিয়ম বন্ধ হবে। মামলার তদন্ত ও সাক্ষী হাজিরের বিষয়ও মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে।
এর আগে ২০২০ সালে হাইকোর্ট ভুয়া ওয়ারেন্ট ঠেকাতে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় নিরীহ মানুষ একের পর এক হয়রানির শিকার হয়েছেন। আশুলিয়ার আওলাদ হোসেনকে ভুয়া ওয়ারেন্টে টানা ৬৮ দিন হাজতে থাকতে হয়েছিল, যা নিয়ে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্দেশনা দিয়েছিল। এবার অনলাইনে সমন-ওয়ারেন্ট পাঠানোর নতুন উদ্যোগে সেই হয়রানি রোধে কার্যকর সমাধান মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এস