রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের মনে প্রশ্ন ছিল—কোক স্টুডিও বাংলায় দেখা যাচ্ছে না হাবিব ওয়াহিদকে কেন? অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে 'মহা জাদু' গান দিয়ে ফিরলেন তিনি, আর সঙ্গে নিয়ে এলেন নতুন এক বিস্ময়—তাজিক শিল্পী মেহরনিগরি রুস্তম।
লোকগানকে আধুনিক স্পর্শে উপস্থাপনে হাবিব ওয়াহিদের জুড়ি মেলা ভার। তার সেই স্বকীয় ধারা বজায় রেখেই এবার কোক স্টুডিওর মঞ্চে মেহরনিগরির সঙ্গে মিলে যেন এক নিখুঁত সুরের মায়াজাল তৈরি করেছেন তিনি।
গানটি প্রকাশের পরপরই অনলাইনে ঝড় তোলে। ইউটিউব, ফেসবুক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার আর প্রশংসার বন্যায় ভাসছে 'মহা জাদু'। তবে গানটি আলোচনায় এসেছে শুধু হাবিবের জন্য নয়, মেহরনিগরির অনবদ্য কণ্ঠশৈলীতেও মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য শ্রোতা।
কে এই মেহরনিগরি? মেহরনিগরি রুস্তমের জন্ম তাজিকিস্তানের খোভালিং জেলায়, ১৯৯৪ সালের ১৪ অক্টোবর। সংগীতপ্রেমী এক পরিবারে বেড়ে ওঠা এই গায়িকা মাত্র ৫ বছর বয়সেই গান গাইতে শুরু করেন। শৈশবেই অংশ নেন একাধিক সংগীত প্রতিযোগিতায় এবং নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন।
২০০১ সালে ‘বাডস অব হোপ’ প্রতিযোগিতায় প্রথম বড় মঞ্চে গান করেন তিনি। এরপর ২০০৩ সালে ‘সানশাইন’ নামের প্রতিযোগিতায় জিতে নেন গ্র্যান্ড প্রাইজ। আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার সাফল্য ঈর্ষণীয়—২০০৬ সালে সিআইএস দেশগুলোর তরুণ শিল্পীদের প্রতিযোগিতায় জেতেন দুটি স্বর্ণপদক।
সংগীতের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগী মেহরনিগরি। ২০১১ সালে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন দুশানবে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে এবং পরে তাজিক ন্যাশনাল কনজারভেটরিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
এক দশকের সংগীতজীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন একাধিক জনপ্রিয় গান—‘জাদুগার’, ‘নিগিন আনোর’, ‘গুল’, ‘আনার আনার’, ‘দিলি জোর’ ইত্যাদি। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয় তিনি; শুধু ইনস্টাগ্রামেই অনুসারীর সংখ্যা ১৫ লক্ষের বেশি।
হাবিব ওয়াহিদের মতো একজন আইকনের সঙ্গে তার এই যৌথ পরিবেশনা কেবল সুরের বৈচিত্র্যই নয়, সংস্কৃতির সেতুবন্ধও তৈরি করেছে—বাংলা ও তাজিক সংগীতের মধ্যে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম