ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ক্যারিবীয় সাগরে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধ উস্কে দিচ্ছে’ বলে অভিযোগ তুলেছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এমন তথ্য জানা গেছে।
এর একদিন আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভূমধ্যসাগর থেকে রণতরীটি মোতায়েনের নির্দেশ দেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ ৯০টি যুদ্ধবিমান বহনক্ষমতাসম্পন্ন এই রণতরীটি যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মাদুরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা একটি নতুন চিরস্থায়ী যুদ্ধ তৈরি করছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না— অথচ এখন নিজেরাই যুদ্ধের মঞ্চ তৈরি করছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, এই সামরিক অভিযান মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত। তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত ১০টি বিমান হামলায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের সর্বশেষ হামলায় ৬ জন নিহত হয় বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ।
লক্ষ্যবস্তু ছিল ভেনিজুয়েলার ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামের একটি অপরাধী সংগঠনের নৌযান, যাকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।তবে বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অনেক দেশও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থি হতে পারে।
এমনকি মার্কিন কংগ্রেসের দুই দলের সদস্যরাও প্রেসিডেন্টের এককভাবে হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন,যদি কেউ মাদকবাহী নৌকা ধ্বংস হতে না দেখতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাঠানো বন্ধ করুক।”
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড. ক্রিস্টোফার সাবাতিনি মনে করেন,যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা আসলে ভেনিজুয়েলায় শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এটি ভয় দেখানোর কৌশল, যাতে মাদুরোর ঘনিষ্ঠরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।”
অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। তিনি বলেন আমরা এখন স্থলভাগের দিকেও নজর দিচ্ছি, কারণ সমুদ্র আমরা ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম