রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে নিজেদের যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। রবিবার এক বিবৃতিতে হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেড বলেছে, রাফাহতে আমাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পূর্ণ দায়ভার দখলদার ইসরায়েলের। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হামাস বলেছে, তারা যেন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে দায়িত্ব নেয় এবং ইসরায়েলের ভিত্তিহীন দাবি ঠেকাতে ভূমিকা রাখে।মিসরের আল কাহেরা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল এখনও রাফাহতে আটকে থাকা হামাস যোদ্ধাদের নিরাপদে বের হওয়ার অনুমতি দেয়নি। হামাস বলেছে, শত্রুকে বুঝতে হবে, আত্মসমর্পণ বা আত্মসমর্পণের চিন্তা আল কাসেম ব্রিগেডের অভিধানে নেই।
রাফাহতে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ২০০ হামাস যোদ্ধা আটকে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামাস মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তাদের নিরাপদে বের হওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করেছে।
ইসরায়েলের দৈনিক হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি হামাসের এই ২০০ সদস্যকে ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিরাপদে যেতে দিতে রাজি নন।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের সেনাপ্রধান এয়াল জামির জানান, ২০১৪ সালে নিহত ইসরায়েলি সেনা হাদার গোল্ডিনের মরদেহ ফেরত আনতে হামাসের সদস্যদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি বলেন, এ বিষয়ে হামাসের সঙ্গে কোনও চুক্তি হবে না।
রবিবার হামাস জানায়, গাজায় কার্যকর যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তারা ওই ইসরায়েলি সেনার মরদেহ বিকেল ২টা স্থানীয় সময় (১২০০ জিএমটি) ফেরত দেবে।
আল কাসেম ব্রিগেডের দাবি, গোল্ডিনের মরদেহ শনিবার রাফাহর ইয়াবনা শিবিরের একটি সুড়ঙ্গে পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধযোদ্ধাদের হাতে বন্দি হয়েছিলেন গোল্ডিন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস এখন পর্যন্ত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে জীবিত মুক্ত করেছে এবং ২৮ জনের মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করেছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, ফেরত পাওয়া এক মরদেহ তাদের তালিকাভুক্ত বন্দিদের কারও সঙ্গে মেলেনি।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ