ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার খালাসি ডাঙ্গী গ্রামে আজও জীবন্ত বিস্ময় হিসেবে পরিচিত ১৩০ বছর বয়সী ফুল কুমারী। এত বয়সেও তার মুখে আছে দাঁত, মাথার চুল আধপাকা, এখনো নিজে হাঁটতে পারেন, নিজ হাতে ভাত খেতে পারেন।
বর্তমান সময়ে এমন দীর্ঘায়ু মানুষ খুব কমই দেখা যায়। যারা থাকেন, তাদের বেশিরভাগই অচল, কিন্তু ফুল কুমারী ব্যতিক্রম। প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী কুটিশ্বর মণ্ডলকে হারিয়েছেন তিনি। দুই ছেলে ও চার মেয়েকে নিয়ে তার সংসার ছিল। দিন গড়াতে গড়াতে এখন তার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি ও প্রপৌত্র মিলিয়ে প্রায় ৫২ জন বংশধর রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য, ফুল কুমারী নিজের চোখে নাতি-নাতনির সন্তান পর্যন্ত দেখছেন এবং তাদের সঙ্গে খেলাধুলাও করেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বর্তমান সমাজে যেখানে মা-বাবার যত্ন কমে যাচ্ছে, সেখানে ফুল কুমারীর ছোট ছেলে মন্টু মণ্ডল এখনো মায়ের সঙ্গে একই ঘরে রাতযাপন করেন। নিজের স্ত্রী-সন্তানকে অন্য ঘরে রেখে মায়ের দেখাশোনাকেই অগ্রাধিকার দেন তিনি।
পরিবারটি সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। সবাই খুব হাসিখুশি, আন্তরিক এবং একে অন্যের প্রতি যত্নশীল। ফুল কুমারীর দুই পুত্রবধূও শাশুড়ির প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল। পরিবারের সবার ভালোবাসায় ফুল কুমারী আজও সুস্থ, হাসিখুশি এবং শান্ত পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন।
তবে আর্থিক স্বচ্ছলতা তেমন নেই। ফুল কুমারীর স্বামী জীবদ্দশায় মাটির হাড়ি-পাতিল বিক্রি করতেন। ছেলে-নাতিরা কাঠমিস্ত্রি ও অন্যান্য কাজে জীবিকা নির্বাহ করেন।
বর্তমান শীতের মৌসুমে এমন বয়স্ক বিধবা ফুল কুমারীর জন্য প্রশাসনসহ সমাজের অন্যান্য সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে