রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বৃহস্পতিবার) ৬১ বছরে পদার্পণ করছেন। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান।
তবে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উৎসব আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দেশব্যাপী সব ইউনিটকে দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে—কেক কাটা, ব্যানার-পোস্টার লাগানো, আলোচনা সভা কিংবা প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। এমন আড়ম্বরের পরিবর্তে যারা কিছু করতে চান তাদের অর্থ দান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
তারেক রহমানের শৈশব কেটেছে সাদামাটা পরিবেশে। পরিবারের সরল জীবনযাপনের শিক্ষাই ছিল তার বেড়ে ওঠার মূল ভিত্তি। শিক্ষা জীবনের শুরু শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে, যেখানে সেনা সদস্যদের সন্তানরাই পড়ার সুযোগ পেতেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রিয় বিষয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে শেষ করেন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা।
শিক্ষা জীবনে নিয়মিত পাঠের পাশাপাশি সক্রেটিস থেকে শুরু করে প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার, কার্ল মার্কসসহ উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দার্শনিকদের ভাবধারা তিনি গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। ঠিক সেই সময়েই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তার মা বেগম জিয়া স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যা তাকে রাজনীতির প্রতি আরও আকৃষ্ট করে।
তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে যাত্রা শুরু ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে। ১৯৯৩ সালে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলের পক্ষে মাঠে নেমেও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয় প্রচারণা কৌশল কমিটির সদস্য হিসেবে বেগম জিয়ার পাঁচটি নির্বাচনি আসনের প্রচারণা সমন্বয় করেন তিনি—পাঁচটিতেই তার মা বিজয়ী হন, যা তারেক রহমানের সাংগঠনিক দক্ষতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়।
পরবর্তীতে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একাধিক মামলায় তাকে জড়ানো হয়, যেগুলোকে বিএনপি ‘অব্যাহত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে।
এর মধ্যেও তিনি দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যেখানে রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গ নির্বাহী, বিচার বিভাগ ও আইনসভার কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তার লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সম্মান, শান্তি এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতভাবে উপভোগ করতে পারে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি তার অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন।
এছাড়া তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বিত কাজ করার কথা বলেন।
যোগ্যতাভিত্তিক সমাজ এবং বিশ্বমূলধারার সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করাই তারেক রহমানের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রত্যাশার অংশ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে নিকট ভবিষ্যতে তার দেশে ফেরারও কথা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম