| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে সিলেট-ময়মনসিংহসহ ৯ জেলা

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২২, ২০২৫ ইং | ০৫:০৯:৩৭:পূর্বাহ্ন  |  ১২৩৮৯০৫ বার পঠিত
ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে সিলেট-ময়মনসিংহসহ ৯ জেলা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভূমিকম্পের ঝুঁকি মূল্যায়নে বাংলাদেশকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চল জোন-১, মাঝারি ঝুঁকির এলাকা জোন-২ এবং তুলনামূলক নিম্নঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলকে জোন-৩ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রকাশিত মানচিত্রে দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে।

মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জেলা জোন-১-এর আওতায় পড়ে, যেগুলো ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ। সাধারণত ফল্ট লাইন বা প্লেট বাউন্ডারির আশপাশের অঞ্চলেই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মোট ৯টি জেলা, ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর কিছু অংশ, পুরো কিশোরগঞ্জ জেলা, কুমিল্লা বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বড় অংশ উচ্চঝুঁকির আওতায় চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালী জোন-৩-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে অন্তত পাঁচ দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এসব কম্পনের অধিকাংশের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারাঞ্চল। ফলে ভবিষ্যতেও এসব এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের আসাম-মেঘালয়ের সীমান্তসংলগ্ন সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলকেও অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের চারপাশে অন্তত পাঁচটি ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল রয়েছে। এর মধ্যে প্লেট বাউন্ডারি-১ রয়েছে মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত, প্লেট বাউন্ডারি-২ নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত এবং প্লেট বাউন্ডারি-৩ সিলেট হয়ে ভারতের দিকে গেছে। এছাড়া ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকায় ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্টও গুরুত্বপূর্ণ উৎপত্তিস্থল হিসেবে বিবেচিত।

রাজউকের তথ্য অনুসারে, রাজধানী ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ ভবন দ্বিতল বা এর চেয়ে কম হওয়ায় সেগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে ৪ থেকে ৩০ তলা পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ভবনকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভূমিকম্পে এ ভবনগুলো ধসে পড়লে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনশীল করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ডা. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। শুক্রবারের ভূমিকম্প সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাত্র ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যার উৎপত্তি ঢাকার মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে, তাতেই যদি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আরও শক্তিশালী কম্পনে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। বিল্ডিং কোড মানা ছাড়া যেভাবে রাজধানীতে ভবন নির্মিত হচ্ছে, সরকারকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪