| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিদেশি ফল আনারকলি চাষে সফল কৃষক জহুরুল

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২২, ২০২৫ ইং | ১৫:০৩:২৪:অপরাহ্ন  |  ১২৩৯২৭৮ বার পঠিত
বিদেশি ফল আনারকলি চাষে সফল কৃষক জহুরুল

জয়নাল আবেদীন জয় (উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি): ৬৫ শতক কৃষি জমিতে বিদেশি ফল প্যাশন (আনারকলি/ট্যাংক ফল নামে পরিচিত) চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন এক কৃষক। এক মৌসুমেই তিনি এ চাষাবাদ থেকে খরচ বাদে ৬ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। এই সফল কৃষকের নাম জহুরুল ইসলাম। তিনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেপলার পাগলা বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অর্থকারী ফল, ফসল এবং সবজি চাষাবাদে জড়িত এ কৃষক।

দক্ষিণ আমেরিকা ও ব্রাজিল দেশের জনপ্রিয় ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল উল্লাপাড়া উপজেলার ফসলি মাঠে ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক জহুরুল ইসলাম। গত বছর তার ভাতিজা কক্সবাজার বেড়াতে যান। সেখানে তিনি প্যাশন ফল খান এবং কয়েকটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেই ফল খেয়ে চাষাবাদে আগ্রহ জাগে জহুরুলের। পরে ভাতিজার সহযোগীতায় ২শ টাকা দরে সেখান থেকে দশটি ফলের চারা সংগ্রহ করে গ্রামে নিজের ফসলি জমিতে লাগান। সেখানে বেচে যাওয়া পাঁচটি গাছে ১০ থেকে ১২ কেজি করে ফল ধরে। যা তিনি পাঁচ শত টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। লাভ পেয়ে বড় পরিসরে এই ফল চাষাবাদের আগ্রহ জন্মে তার। পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওই গাছ থেকে কলম পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করেন জহুরুল।

গত বছরের নভেম্বরের দিকে ৬৫ শতক জমিতে মাচা পদ্ধতিতে চারা রোপন করেন জহুরুল। সেই চারা থেকে চলতি বছরের মে মাস থেকে ফল তোলা শুরু করেছেন। এখন তার পুরো জমির মাচার নিচে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে প্যাশন ফল। একেকটি গাছে ৮০ থেকে ৯০ টি করে ফল ধরেছে। যার ওজন প্রকারভেদে ১৫০ গ্রাম থেকে ২শ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। এই ফল গাছ থেকে টানা ৮ মাস পর্যন্ত ফল তুলে বিক্রি করা যাবে বলে জানিয়েছেন ওই চাষি। 

এই ফল স্থানীয় বাজারসহ সারা দেশে অনলাইনে ৪শ থেকে ৫ শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন ধরনের এই টক এবং মিষ্টি জাতীয় ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। 

এই পুরো চাষাবাদে কৃষক জহুরুলের খরচ হয়েছে প্রায় লাখ টাকা। আর এ থেকে তিনি এক মৌসুমেই ছয় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। যা অন্য কোন ফল, ফসল চাষাবাদে আয় করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি এই গাছ থেকে তৈরি কলম চারা বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছেন। নতুন করে তিনি আরো ৫৬ শতক জমিতে এ ফলের চাষাবাদের পরিধি বৃদ্ধি করেছেন। একই জমির ভিতর সাথী ফসলের চাষাবাদও করে বাড়তি আয় করছেন এই কর্মঠ কৃষক। তার এমন সফল্য এলাকার অন্য কৃষকদেরও এ ফল চাষাবাদে আগ্রহী করে তুলেছে। 

কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরার্মশ এবং সার্বিক সহযোগীতায় তিনি এই সাফল্য পেয়েছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিদিন বাগানে আসছেন। তিনি আশা করছেন এই জমির ফল গাছ থেকে যে চারা উৎপাদন করেছেন তা দিয়ে স্থানীয়সহ দেশের কৃষকরা এ ফল চাষাবদ করে ভাল লাভবান হতে পারবেন। কম খরচে এ ফল চাষাবাদে রোগ বালাইয়ের তেমন আক্রমন হয় না। ফলে অনেক টাকা আয় করা যায়। 

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুর্বণা ইয়াসমিন সুমি জানান, জহুরুল ইসলাম উপজেলার একজন সফল চাষী। বছরজুড়ে তিনি উচ্চমূল্যের নানা ধরনের ফল,ফসল চাষাবাদ করেন। নতুন করে তার এই প্যাশন ফল চাষবাদে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সব রকমের পরার্মশ সহযোগী দিচ্ছি। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে উপজেলার কৃষকদের সব সময় উচ্চ ফলনশীল এবং আয় বর্ধক ফল, ফসল চাষাবাদে সব রকমের সহযোগীতা দিচ্ছি। অন্য কৃষকরা প্যাশন চাষ করতে চাইলে তাদেরও সহযোগীতা করা হবে। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪