রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮টি পদে বেতনক্রম ও গ্রেড পুনর্গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। বহুদিনের সাংগঠনিক অসামঞ্জস্যতা এবং দায়িত্ব পদমর্যাদার সঙ্গে বেতন কাঠামোর অমিল দূর করতে অধিদপ্তর এই প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার কাছে পাঠানো হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) পদটিকে ষষ্ঠ গ্রেড (৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা) থেকে উন্নীত করে পঞ্চম গ্রেডে (৪৩,০০০-৬৯,৮৫০ টাকা) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট পদকেও একইভাবে পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার (এডিপিইও) পদটি নবম গ্রেড (২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা) থেকে এক ধাপে ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে বর্তমানে নবম গ্রেডে থাকা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার (টিইও), গবেষণা অফিসার, পিটিআইয়ের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট, ইন্সট্রাক্টর (ইউপিইটিসি) ও ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ) পদগুলোকে তিন গ্রেড এগিয়ে ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সপ্তম গ্রেডে থাকা প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই অফিসার পদটিকেও ষষ্ঠ গ্রেডে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
দশম গ্রেড (১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা) থেকে সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার (এটিইও), সহকারী শিক্ষা অফিসার, সহকারী মনিটরিং অফিসার, সহকারী গবেষণা অফিসার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, সহকারী ইন্সট্রাক্টর (ইউপিইটিসি) ও সহকারী ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ) পদগুলোকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদটি তৃতীয় গ্রেড (৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা) থেকে দ্বিতীয় গ্রেডে (৬৬,০০০-৭৬,৪৯০ টাকা) উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চিঠিতে এসব পদোন্নয়ন প্রস্তাবের কারণ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকদের বেতনস্কেল আদালতের নির্দেশ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে ১১-১২তম গ্রেড থেকে উন্নীত হয়ে দশম গ্রেডে এসেছে। ফলে মাঠপর্যায়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একই বেতন গ্রেড হওয়ায় প্রশাসনিক ঊর্ধ্বক্রমে অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মনিটরিং কাঠামো ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে পদ সৃজনের কারণে সৃষ্ট অসামঞ্জস্য ও সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখার স্বার্থেই সমন্বিতভাবে পদগুলোর গ্রেড পুনর্গঠন জরুরি বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি