| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যশোরের ৬টি আসনে নিজেদের মধ্যেই লড়াইয়ের আশঙ্কা বিএনপিতে

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৫, ২০২৫ ইং | ০৭:১১:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ১২৩১৬৯৬ বার পঠিত
যশোরের ৬টি আসনে নিজেদের মধ্যেই লড়াইয়ের আশঙ্কা বিএনপিতে

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি যাদের প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে তা পরিবর্তন হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। তারপরও এর মধ্যে চারটি আসনে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে চলছে সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন। পাশাপাশি চলছে গণসংযোগও।

নেতাকর্মীরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে প্রথমে দলীয় বিভাজন দূর করতে হবে। এরপর সবাইকে এক কাতারে এনে লড়াই করাটা বিএনপির জন্য জরুরি—যা দলটির জন্য একপ্রকার চ্যালেঞ্জ।

যদিও জেলা নেতৃবৃন্দ বলছেন, চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা হলে সবকিছু ‘ঠিক’ হয়ে যাবে। তখন সবাই ধানের শীষের জন্যই কাজ করবেন।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। একই সঙ্গে তারা নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এই চারটি আসন হচ্ছে—যশোর-১ (শার্শা), যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা), যশোর-৪ (অভয়নগর–বাঘারপাড়া) ও যশোর-৬ (কেশবপুর)। এছাড়া যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপি নেতাদের ভাষায় প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে। এরপর তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেছেন। তারা হলেন—উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু। তারা সভা-সমাবেশও করেছেন এবং এখনও তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে অটল রয়েছেন।

যশোর-২ (চৌগাছা–ঝিকরগাছা) আসনে বিরোধ সবচেয়ে তুঙ্গে। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন চারজন। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আর এতেই বিদ্রোহ শুরু করেছেন অন্য তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী—জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ নিপুন। তারা সাবিরা সুলতানার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে একাট্টা হয়েছেন এবং প্রকাশ্যে সমাবেশও করেছেন। ফলে যশোরের রাজনীতি বেশ সরগরম।

যশোর-৪ (অভয়নগর–বাঘারপাড়া) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন টিএস আইয়ুব। তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আবেদন করেছেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মনোনয়নপ্রত্যাশী মতিয়ার রহমান ফারাজী। আবেদন করার পাশাপাশি সভা-সমাবেশও করে যাচ্ছেন তিনি।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে। শ্রাবণের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ কেন্দ্রের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

এছাড়া যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি এখনও কারো নাম ঘোষণা করেনি। কারণ হিসেবে নেতারা বলছেন, এখানে শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী রয়েছেন। এর আগে এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মরহুম মুফতি ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তার ছেলে রশিদ বিন ওয়াক্কাস মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে উপজেলা বিএনপির একাংশ তার মনোনয়ন মানতে নারাজ। সভাপতি শহিদ ইকবালের অনুসারীরা বলছেন, রশিদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দিলে আসনটি হারাবে বিএনপি। এ কারণে শহিদ ইকবাল প্রতিদিন গণসংযোগ করছেন।

এই অবস্থায় আসন্ন নির্বাচনে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে বিএনপির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূলে থাকা নেতাকর্মীরা। তাদের বক্তব্য, যেসব নেতা কখনও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের খোঁজখবর নেননি, তাদের প্রার্থী করা হলে তা দলের জন্য ‘অমঙ্গল’ হতে পারে। এ কারণে তারা প্রার্থী পরিবর্তন চান।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘বিএনপি বড় দল। এখানে যোগ্য অনেক নেতা রয়েছেন। সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলেই অন্যরাও দাবি করছেন। চূড়ান্ত মনোনয়ন হলে সবাই একাট্টা হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। আমরা ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছি—ব্যক্তিগত পছন্দ–অপছন্দ না দেখে দলের প্রতীক ধানের শীষের জন্য কাজ করতে হবে। কোনোরকম বিরোধিতা করা যাবে না।’

সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘একাধিক নেতা মনোনয়ন চাইতেই পারেন। প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলেই অন্যরা নানাভাবে দাবি করছেন। চূড়ান্ত ঘোষণা হলে সবাই মাঠে নামবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

এদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন, যশোরের ছয়টি আসনে যাদের ‘প্রাথমিক’ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, চূড়ান্ত পর্যায়ে তারাই প্রার্থী থাকবেন। শেষ পর্যন্ত তাতে নড়চড় হবে না। ফলে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গেই কাজ করতে হবে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪