| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে রাজস্ব আয় ৭৬৪ কোটি টাকা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৫, ২০২৬ ইং | ০১:১০:২৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৪৩ বার পঠিত
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে রাজস্ব আয় ৭৬৪ কোটি টাকা

সিনিয়র রিপোর্টার: দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে গত পাঁচ অর্থবছরে মোট ১৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। একই সময়ে উপগ্রহটির বিভিন্ন সেবা থেকে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংসদে উপস্থাপিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে ৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকায়।

তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৭৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিট লোকসান দেখায়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়।

লোকসানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৩০ জুন স্যাটেলাইটটির সম্পদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর ফলে ওই সময় থেকে হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্যাটেলাইটের অবচয়মূল্য (ডিপ্রিসিয়েশন) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ কারণেই কাগজে-কলমে লোকসান দেখা গেলেও বাস্তবে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় মুনাফায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ডিটিএইচ (ডিরেক্ট-টু-হোম) ও ভি-স্যাট সেবাও প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে ব্যান্ডউইথ বিক্রি এবং জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের মাধ্যমে উপগ্রহটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এদিকে দ্বিতীয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২’ একটি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই উপগ্রহের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন পর্যবেক্ষণ, মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলে জাহাজের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে নতুন করে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের তিনটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তাদের প্রস্তাব বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২’ প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি নথিপত্রে দেশের প্রথম উপগ্রহের নাম ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যেও মন্ত্রী এই নতুন নাম ব্যবহার করেন।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪