রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে বিয়েতে মাইক বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কন্যাসহ তার পরিবারের সদস্যদের বেত্রাঘাত এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অনানুষ্ঠানিক সালিশে এমন ‘শাস্তি’ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। জানা যায়, সম্প্রতি পরিবারের কন্যার বিয়েতে মাইক ব্যবহার করেছিল তারা। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদ জানালে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক এরপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ। পরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশ ডেকে শাস্তির রায় দেন।
ভুক্তভোগী কন্যার বাবা শাহজাহান বলেন, মেয়ের বিয়েতে খুশি হয়ে মাইক বাজিয়েছিলাম। এ জন্য আমাকে ও আমার পরিবারের সবাইকে মারধর করা হয়েছে। সালিশদাররা আমাদের সবাইকে ১৫টি করে বেত্রাঘাতের রায় দেন। বার বার ক্ষমা চাইলেও তারা শোনেননি। এরপর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে। টাকা দিতে না পারায় আমার জামাতার অটোরিকশা আটকে রেখেছে।
সালিশে উপস্থিত থাকা এক সালিশদার জানান, মাইক বাজানো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংঘর্ষ হলে আফসার নামের এক ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকা হারানোর দাবি ওঠে। সঠিক প্রমাণ না পেলেও একজন সালিশদার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। তিনি দাবি করেন, নারীদের বেত্রাঘাত করা হয়নি; পুরুষদের করা হয়েছে এবং নারীদের ‘শাসন’ করার দায়িত্ব পরিবারের মুরব্বিদের দেওয়া হয়।
সাগরিয়া ফাঁড়ির এসআই ফরহাদ হোসেন বলেন, বিয়েতে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে যাই। উভয়পক্ষকে আইনি পথে সমাধানের পরামর্শ দিই। পরে তারা গ্রাম্য সালিশ করে। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।