| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ৪ মাসে যাত্রী কমেছে ৪ লাখ ২ হাজার

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০২, ২০২৫ ইং | ১৩:০০:২২:অপরাহ্ন  |  ১১৯২৩৪০ বার পঠিত
বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ৪ মাসে যাত্রী কমেছে ৪ লাখ ২ হাজার

বেনাপোল প্রতিনিধি : ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে নানান জটিলতায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমেছে ৪ লাখ ২ হাজার ৮৪৯ জন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর ভ্রমণ খাতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা এবং একের পর এক শর্ত আরোপে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। তবে ভারতীয়দের ভিসা প্রাপ্তিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকায় তাদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।

চেকপোস্ট বন্দর সূত্রে জানা যায়, ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিবছর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ১৮ থেকে ২০ লাখ পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেন। এতে পাসপোর্টধারীরা যেমন সুবিধা পেতেন, তেমনি ভ্রমণ খাতে ভ্রমণকর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ১৫০ কোটি এবং ভিসা ফি বাবদ ভারত সরকারের ২০০ কোটি টাকা আয় হতো। গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা সীমিত ও নানান শর্ত আরোপ করে। এতে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ভিসা প্রদান সহজ করেনি দেশটি। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী ভিসা না পেয়ে বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাংলাদেশিরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর ৪ মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৮১৮ জন দেশি–বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫২ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮৬ জন। অপরদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে ৪ মাসে যাতায়াত করেছেন মাত্র ২ লাখ ২ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৮৮ হাজার ২৩৫ জন। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত কমেছে ৪ লাখ ২ হাজার ৮৪৯ জন। এতে ভারত সরকারের ভিসা ফি খাতে প্রায় ৪২ কোটি এবং বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণকর খাতে প্রায় ৩২ কোটি টাকা রাজস্ব কমেছে।

এদিকে ব্যবসা, স্বজনদের সাথে দেখা ও মেডিকেলে পড়তে প্রতিবছর কেবল বেনাপোল বন্দর দিয়েই প্রায় আড়াই লাখ পাসপোর্টধারী ভারতীয় বাংলাদেশে আসেন। তবে ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো বাধা না থাকায় তাদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। ভারতীয় ভিসা সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এদেশের ভুক্তভোগীরা।

ভারত ভ্রমণকারী আতিয়ার রহমান জানান, কড়াকড়িতে ভিসা পেতে অনেক টাকা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসা পরিচালনা ও চিকিৎসায়। ভিসা সহজ করার অনুরোধ রাখছি সরকারের কাছে।

এক ভিসা ব্যবসায়ী হায়দার আলী বলেন, আমি ১২ হাজার টাকা দিয়ে ভিসা পেয়েছি। দালাল ছাড়া কোনো ভিসা পাওয়া যায় না। এর আগে সব ঠিক থাকলেও ভিসা না দিয়ে পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছে।

চিকিৎসা ভিসা নিয়ে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরা আব্দুল হান্নান জানান, আমি কলকাতার একটি হাসপাতালের এক ডাক্তারের জন্য ভিসা নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার এক আত্মীয় আমাকে অন্য একজন ডাক্তারের কাছে দেখান। এ কারণে ফেরার সময় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। ভবিষ্যতে ভিসা পাবো না বলে হুমকি দেয়। অনেকের পাসপোর্টে সিল মেরে দেয়, এতে পরবর্তীতে ভিসা পাওয়া যায় না। অনেক অনুনয়–বিনয় করে ফিরতে পেরেছি।

বাংলাদেশ ভ্রমণে আসা ভারতীয় নাগরিক সুরজিৎ সাহা ও রেখা সাহা জানান, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে তাদের ভিসা পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। স্বাভাবিক নিয়মে ভিসা পেয়েছি। আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা ও ঘোরাঘুরির জন্য বাংলাদেশে এসেছি।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভিসা জটিলতায় যাত্রী পারাপার অনেক কমে গেছে। সেই সাথে সরকারের রাজস্বও কমছে। সর্বশেষ সোমবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে মাত্র ৯৪০ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ৫৯০ জন এবং ভারতীয় নাগরিক ৩৫০ জন।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪