| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুপুরে ক্লাস, বিকালে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে জীবনের ভার বহন করেন তৈয়বুর

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫ ইং | ২৩:৪৯:৪৫:অপরাহ্ন  |  ১৯৪৫২৬৬ বার পঠিত
দুপুরে ক্লাস, বিকালে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে জীবনের ভার বহন করেন তৈয়বুর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : দুপুরে ক্লাস, বিকালে অটোরিকশার হ্যান্ডেল—এভাবেই চলছে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তৈয়বুর রহমানের জীবনযুদ্ধ। লেখাপড়া থামিয়ে না দিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের ইয়াকুবপুর গ্রামের কৃষক মেছের আলীর মেজো ছেলে তৈয়বুর। সংসারে সম্বল বলতে ভিটে আর কয়েক শতক জমি। বাবা কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালালেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। কলেজে উঠতেই বাড়তি খরচের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তৈয়বুর বলেন, “একদিকে সংসারের টানাপোড়েন, অন্যদিকে লেখাপড়ার খরচ। বাবার ওপর আর চাপ দিতে পারিনি। তাই অটোরিকশা চালানো ছাড়া উপায় ছিল না। পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চাই—এই স্বপ্নই আমার শক্তি।”

স্কুলজীবনে বাবার কষ্টেই পড়া শেষ হলেও কলেজে এসে বাধা বাড়তে থাকে। ক্লাসের বাইরে টিউশন, উপকরণ, যাতায়াত—সব মিলিয়ে খরচের চাপ বেড়ে যায়। তখনই দুই ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন—কেউ লেখাপড়া ছাড়বেন না, দুজন ভাগ করে গাড়ি চালাবেন।

বড় ভাই তরিকুল ইসলাম সকালে গাড়ি চালিয়ে আয় করেন পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা। তৈয়বুর চালান বিকেলে। তাঁর আয় চার থেকে পাঁচশ টাকা। দিনশেষে এই আয়েই চলে পরিবারের খরচ, চলে তাঁর লেখাপড়া।

ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার পারুল বেগম জানান, শুধু ঠাকুরগাঁও জেলাতেই অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি অটোরিকশা চালাচ্ছেন। তাদের অনেকেই সংস্থার ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ের মতো পঞ্চগড় ও দিনাজপুরেও অসংখ্য ছাত্র এভাবে সংসার টেনে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। এরা আসলে জীবনের যোদ্ধা।”

তৈয়বুরের চোখে এখনো স্বপ্ন উজ্জ্বল—পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করা, বাবার বোঝা হালকা করা, আর নিজের পরিবারকে একটু স্বচ্ছলতায় নেওয়া।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪