রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার বিষয়ে আলোচনা এখন অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল–থানি। শনিবার দোহা ফোরামে তিনি বলেন, চলমান সমঝোতা এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নয়—এটি কেবল একটি বিরতি মাত্র।
তিনি বলেন, “এটিকে এখনো যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। পূর্ণ যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজন ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ–প্রস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা—যা এখনো হয়নি।”
গাজায় দুই বছরের যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একটি প্রতিনিধি–দল কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে শেষ জীবিত বন্দিকে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে, যা পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করতে প্রয়োজন।
যুদ্ধবিরতি শুরুর পর হামাস ২০ জন জীবিত ও ২৭ জন নিহত ইসরায়েলি বন্দির দেহ ফেরত দিয়েছে। বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, শেষ নিহত বন্দির দেহ ফেরত পেলেই রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ–বহির্গমন পুনরায় চালু করা হবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসন গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা একটি আন্তর্জাতিক ‘শান্তি–পর্যবেক্ষক বোর্ড’ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর কাঠামো ও দায়িত্ব নিয়ে মতৈক্য তৈরি করাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকার পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। শনিবার অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বেইত লাহিয়া, জাবালিয়া ও জায়তুন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এসব মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক নারীও রয়েছেন, যিনি ড্রোন হামলায় নিহত হন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করা কয়েকজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে তারা গুলি করে হত্যা করেছে। ড্রোন হামলার বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পায়নি। -রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি