| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জনসন পাউডার ব্যবহারে ক্যান্সার, ৪ কোটি ডলার জরিমানা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ ইং | ০৮:৫৫:৫০:পূর্বাহ্ন  |  ৩৫৫৫৭৩ বার পঠিত
জনসন পাউডার ব্যবহারে ক্যান্সার, ৪ কোটি ডলার জরিমানা
ছবির ক্যাপশন: ফাইল ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ের (ওভেরিয়ান) ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দেওয়া এই রায়ে অভিযোগকারী দুই নারীকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের আদেশ দেন আদালত। খবর দ্য গার্ডিয়ান-এর।

লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টের জুরির রায়ে বলা হয়, ভুক্তভোগী মনিকা কেন্টকে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ডেবোরা শুল্টজ ও তার স্বামীকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আদালত মনে করেছে, জনসন অ্যান্ড জনসন বহু বছর ধরেই জানত যে তাদের ট্যাল্ক-ভিত্তিক পণ্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সে বিষয়ে ভোক্তাদের যথাযথভাবে সতর্ক করেনি।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের বৈশ্বিক লিটিগেশনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস বলেন, “এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আপিল করব এবং আগের মতোই এই ব্যতিক্রমধর্মী বিরূপ রায়ে জয়ী হওয়ার প্রত্যাশা করছি।”

আদালতের নথি অনুযায়ী, মনিকা কেন্টের ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার শনাক্ত হয় ২০১৪ সালে এবং ডেবোরা শুল্টজের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে। তারা দুজনই ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং আদালতে সাক্ষ্যে জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে গোসলের পর জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করতেন।

ক্যান্সারের চিকিৎসায় তাদের বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ও একাধিকবার কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে বলেও তারা আদালতে জানান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ডি বার্চফিল্ড বলেন, “১৯৬০-এর দশক থেকেই জনসন অ্যান্ড জনসন জানত যে তাদের পণ্য ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তারা জেনেশুনেই ঝুঁকির তথ্য গোপন করেছে।”

অন্যদিকে, জনসন অ্যান্ড জনসনের আইনজীবী অ্যালিসন ব্রাউন দাবি করেন, “পাউডারের সঙ্গে ক্যান্সারের যোগসূত্র কোনো বড় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেনি। এমন কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণাও নেই যা প্রমাণ করে বাহ্যিকভাবে ব্যবহৃত পাউডার প্রজনন অঙ্গে পৌঁছাতে পারে।”

আদালতের নথি অনুযায়ী, জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬৭ হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় বাদীরা অভিযোগ করেছেন, বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যাল্ক পণ্য ব্যবহারের পর তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

কোম্পানিটি বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পণ্য নিরাপদ এবং এতে অ্যাসবেস্টস নেই। তবে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাল্ক-ভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে কর্নস্টার্চ ভিত্তিক পণ্য চালু করে জনসন অ্যান্ড জনসন।

এই বিপুল মামলার নিষ্পত্তিতে দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও ফেডারেল আদালত তা তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলেও একই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এর আগে একাধিক মামলায় ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের জন্য সর্বোচ্চ ৪৬৯ কোটি ডলার (৪.৬৯ বিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের নজির রয়েছে। পাশাপাশি ট্যাল্ক ব্যবহারে সৃষ্ট মেসোথেলিওমা নামের বিরল ক্যান্সার সংক্রান্ত মামলাতেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। গত অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেসে এমন এক মামলায় ৯০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণের রায় আসে।

রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪