রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: নওগাঁ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন স্থানেই জানাজা-মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নওগাঁর নওজোয়ান মাঠে দুপুর আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাজার নামাজটি মাজলিসুল মোফাচ্ছেরিন নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা—নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুর রাকিব ও অন্যান্য রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন; দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়েছে—তাদের দাবি। তারা হাদির আদর্শ ধারণ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, হাদির হত্যার রহস্য উদঘাটন ও বিচারের জন্য পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে; শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে একই দিনে বেলা আড়াইটায় হাজারো ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে গায়েবানা জানাজা ও প্রতীকী কফিন মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জানাজার পূর্বে বক্তব্য দেন চাঁদপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহাজান খান, এনসিপির জেলা সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম এবং গণঅধিকার পরিষদের চাঁদপুর জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন। বক্তারা হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কড়া শাস্তির দাবি জানান। জানাজার শেষে কলেজ মাঠ থেকে কফিন মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলওয়ে জামে মসজিদ চত্বরে এসে শেষ হয়; মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে নিন্দা জানান ও ন্যায়বিচার দাবিতে শপথ নেন।
লক্ষ্মীপুরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় লিল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আছরের নামাজের পর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ হাদির জন্য মাগফেরাত কামনা করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার ত্যাগের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেন। বক্তারা বলেন, হাদি ভারতের আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক ছিলেন এবং তার হত্যায় কোনোক্রমেই বিপ্লবী আন্দোলন থামবে না; তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবে—এরকম আহ্বান করেন উপস্থিতেরা।
তিন অঞ্চলের জনসম্মুখে একরকম নির্দেশনা ছিল: দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং রাজনৈতিক-প্রগতিশীল আন্দোলনকে দমন করে ভীতি সৃষ্টি করা যাবে না। নওগাঁ পুলিশের বক্তব্য এবং নানা এলাকায় নিহত-প্রতীকী কফিন মিছিল প্রদর্শিত সংহত প্রতিবাদ—এসবই ইঙ্গিত দেয় যে হাদির মৃত্যু নিয়ে দেশের অনেক স্থানে গভীর শোক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি