কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: ভোরের আলো ফোটার আগেই যেন থমকে যায় কালিহাতী। ঘন কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়ে পথঘাট, মাঠ-ঘাট আর মানুষের মুখ। কনকনে শীত আর হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়ে চারপাশ। তবু জীবনের তাগিদ থামে না। প্রতিদিনের মতোই শীত উপেক্ষা করে ঘর ছাড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ক্রমেই নামছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে, হেডলাইট আর ফগলাইট জ্বালিয়েই পথ চলতে হচ্ছে চালকদের।
এই প্রতিকূল পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষরা। কৃষিশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, ভ্যানচালক কিংবা ছোট দোকানিরা সীমিত শীতবস্ত্রেই কাজে নেমেছেন। শীতের কষ্ট সত্ত্বেও জীবিকার সংগ্রামে তাদের থামার সুযোগ নেই। অনেকেই বলেন, কাজ না করলে সংসারের চুলা জ্বলে না—এই বাস্তবতাই তাদের বাইরে বের করে আনে।
তীব্র শীত আর কুয়াশার মধ্যেও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে জীবনের স্বাভাবিক স্পন্দন। সকাল থেকেই বাজারে জমে উঠেছে কেনাবেচা। শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা চলছে আগের মতোই। ঠান্ডা ঠেকাতে কেউ আগুন জ্বালিয়ে, কেউ মোটা কাপড় জড়িয়ে দোকান সামলাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মানুষের কষ্ট বাড়ালেও জীবন থেমে থাকে না। তবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র সহায়তা এবং শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং কুয়াশা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন