| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিপ্লবের স্পিরিট বনাম জামায়াত সমীকরণ: এনসিপির এই ভাঙন কি অনিবার্য ছিল?

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫ ইং | ১৫:২২:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৯৪০৩৪৫ বার পঠিত
বিপ্লবের স্পিরিট বনাম জামায়াত সমীকরণ: এনসিপির এই ভাঙন কি অনিবার্য ছিল?
ছবির ক্যাপশন: শাহানুজ্জামান টিটু

শাহানুজ্জামান টিটু

২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর যখন 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ করে, তখন তাদের স্লোগান ছিল—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং নতুন ধারার রাজনীতি। কিন্তু মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভাঙনের মুখে। ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার যে হুঙ্কার দিয়ে এনসিপি যাত্রা শুরু করেছিল, আজ কয়েকজন নেতার আসন ভাগাভাগির লোভে তারা কি তবে নিজেদের আদর্শিক ভিত্তিটাই হারিয়ে ফেলছে?

আদর্শ বনাম কৌশল: জামায়াত সমীকরণ

এনসিপির বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন সমঝোতার গুঞ্জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির সাথে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে এবং ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে এনসিপি জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে। যদিও দলের নেতারা একে 'সংস্কার প্রশ্নে সামঞ্জস্য' হিসেবে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু দলের ভেতরের চিত্রটি একেবারেই উল্টো।

ইতিমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন— "দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছে।" শুধু তিনিই নন, জনপ্রিয় নেত্রী তাসনিম জারা দল ত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অনিক রায়, তুহিন খান, অলিক মৃ এবং সর্বশেষ তাজনূভা জাবীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রস্থান দলটিকে সাংগঠনিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

৩০ নেতার বিদ্রোহ: নীতিগত সংঘাতের নেপথ্যে

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জমা পড়া ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের স্মারকলিপিটি ছিল দলটির জন্য এক বড় ধাক্কা। সেখানে তারা জামায়াতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তুলেছেন, তা অত্যন্ত গুরুতর: 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা এবং গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত দলের সাথে সমঝোতা এনসিপির নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গুপ্তচরবৃত্তি ও চরিত্রহনন: জামায়াত ও শিবিরের বিরুদ্ধে এনসিপির নারী সদস্যদের অনলাইন হ্যারাসমেন্ট এবং দলের ভেতরে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলেছেন খোদ কেন্দ্রীয় নেতারাই। প্রতারণার অভিযোগ: ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র বিক্রি করে শেষ পর্যন্ত জোটের কাছে মাথা নত করাকে তারা ‘জাতির সাথে প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ক্ষমতার রাজনীতি বনাম নতুন বন্দোবস্ত

এনসিপি বারবার বলেছিল তারা রাজনীতিতে ‘নতুন বন্দোবস্ত’ আনবে। কিন্তু নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দলটির কর্মকাণ্ডে সেই প্রতিশ্রুতির ছায়া দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার লোভে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির সাথে জোটবদ্ধ হওয়া এনসিপিকে একটি গতানুগতিক রাজনৈতিক দলের রূপ দিচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের আশা করেছিল, তাদের মধ্যে এই সমঝোতা গভীর হতাশা তৈরি করেছে।

এনসিপি কি বিলুপ্ত হবে? কোনো রাজনৈতিক দল যদি তার জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই আদর্শিক দ্বন্দ্বে শীর্ষ নেতাদের হারায়, তবে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। জামায়াতের সাথে আসন সমঝোতা হয়তো এনসিপিকে সংসদে দুই-একটি আসন এনে দেবে, কিন্তু যে জনসমর্থন এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে তারা গঠিত হয়েছিল, তা চিরতরে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক পালাবদলের নয়, বরং এনসিপির অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত পরীক্ষা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ,রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪