শেরপুর প্রতিনিধি: ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুর জেলায় হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর গারো পাহাড়ি এলাকায় শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তীব্র হিমেল বাতাসের কারণে ছিন্নমূল মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়রা জানান, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। দিনমজুর, খেটে খাওয়া ও দরিদ্র পরিবারগুলোর কাজকর্ম প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। মধ্যবিত্তরা গরম কাপড় কিনতে পারলেও দরিদ্ররা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না।
শীতজনিত রোগও বাড়ছে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকেরা শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানিয়েছেন, প্রতিদিনই কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে, তবে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৫ হাজার পিস কম্বল ইতোমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে; দ্বিতীয় পর্যায়ের ৩ হাজার পিস কম্বল আসছে, যা দ্রুত বিতরণ করা হবে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত প্রার্থী মাওলানা নুরুজ্জামান বাদলও শীতার্তদের পাশে আরও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি