রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অবশেষে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া অবৈধ বা অনুমোদিত নয় এমন হ্যান্ডসেটগুলোকে সনাক্ত করে বন্ধ করা হবে।
বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) আগে এনইআইআর চালুর সময়সীমা কিছুদিন পিছিয়ে দিয়েছিল। ব্যবসায়ীদের অনুরোধে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা হ্যান্ডসেটের তথ্য জমা দেওয়ার সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা যেকোনো অনুমোদিত বা অননুমোদিত হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই তালিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া ফোনগুলোই এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।
প্রবাসীদের সুবিধা: প্রবাসীরা দেশে তাদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট আনতে পারবেন। এই ফোনগুলো নিবন্ধনের জন্য তিন মাসের সময় পাবেন এবং এই সময় তাদের ফোন সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দেখিয়ে ফোনগুলো এনইআইআর-এ নিবন্ধন করা যাবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব বলেন, যদি বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদ হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই এনইআইআর কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।
এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে বিক্রেতারা বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছিলেন। এই কারণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর চালুর কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করার কথা জানিয়েছিল।
এনইআইআর চালুর উদ্দেশ্য হলো: অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ, মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ
কারিগরিভাবে এটি আইএমইআই, সিম নম্বর এবং আইএমএসআই যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না এবং ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না। তবে কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে ডিভাইস ও সিম সংযুক্ত হওয়ার কারণে নজরদারির উদ্বেগ থাকছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে চুরি হওয়া ফোন বন্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা আছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এনইআইআর ডিজিটাল অর্থনীতিতে জালিয়াতি রোধ করতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি কার্যকর ও বৈধ হবে আইনি তদারকি, স্বচ্ছতা এবং গোপনীয়তা সুরক্ষা নিশ্চিত হলে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়ব আরও জানান, ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য ধারা সংযোজন করা হয়েছে। সিম ও ডিভাইস নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকদের হয়রানি বা নজরদারি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম