| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইউনূস–জয়শঙ্কর সাক্ষাৎ হয়নি কেন, বলছেন বিশ্লেষকরা

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০১, ২০২৬ ইং | ২১:০০:৪০:অপরাহ্ন  |  102109 বার পঠিত
ইউনূস–জয়শঙ্কর সাক্ষাৎ হয়নি কেন, বলছেন বিশ্লেষকরা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

ডিপ্লোাম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট: বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশ সফরে এসেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেননি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। এ নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক সময়সূচির সীমাবদ্ধতা নয়; বরং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতারই প্রতিফলন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তবে সফরকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এলেও তাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ হয়। তবে ভারত, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ছিল অত্যন্ত স্বল্প সময়ের। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না হলেও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক হয়েছে।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল একটি শোকজ্ঞাপনমূলক সফর, যেখানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়নি।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল সময়ের সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন দুই দেশের সম্পর্ক মেরামতের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হলেও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি মনে করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জয়শঙ্করের সফরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা তুলে দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তায় তাঁর নেতৃত্বের উল্লেখ—সব মিলিয়ে ভারত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না হওয়াকে কূটনৈতিক অবহেলা নয়, বরং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বর্তমান শীতল বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতমুখী কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪