| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমি দুবাইয়ে আছি: ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মাসুদের দাবি

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০১, ২০২৬ ইং | ২১:৪৮:০৮:অপরাহ্ন  |  ৭৩৬৮৪৮ বার পঠিত
আমি দুবাইয়ে আছি: ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মাসুদের দাবি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ প্রকাশ্যে হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি দুবাইয়ে ছিলেন। এ দাবি বাংলাদেশের পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়েছিল অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে গেছেন।

একটি ভাইরাল ভিডিও বার্তায়—যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি—মাসুদ বলেন, তিনি ওসমান হাদীকে হত্যা করেননি। বরং একটি ‘উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী’ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার দাবি, ওসমান হাদী ছিলেন জামায়াতের ‘পণ্য’ এবং তাকে হত্যা করেছে ‘জামায়াতি উপাদান’। এ নিয়ে এনডিটিভি আজ ভিডিও বার্তায় মাসুদ বলেন,আমি ফয়সাল করিম মাসুদ। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো ষড়যন্ত্র।

তিনি আরও বলেন,“ভুলভাবে আমাকে জড়ানোর কারণে আমি দেশ ছাড়তে বাধ্য হই এবং কষ্ট করে দুবাইয়ে আসি। আমার কাছে পাঁচ বছরের বৈধ মাল্টিপল-এন্ট্রি দুবাই ভিসা ছিল। মাসুদের দাবি, এই মামলায় তার পরিবারকেও মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে এবং তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

“আমার পরিবারের কোনো সদস্যই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য,” বলেন তিনি।

ওসমান হাদীর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মাসুদ জানান, তিনি একবার হাদীর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তবে তা ছিল কেবল পেশাগত কারণে।

“আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার একটি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং আমি আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেছি। একটি চাকরির বিষয়ে আলোচনার জন্য হাদীর সঙ্গে দেখা করি। তিনি চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং অগ্রিম টাকা চান,” বলেন মাসুদ।

তার দাবি, তিনি হাদীকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য অনুদানও দিয়েছেন।গত শুক্রবারও একটি কর্মসূচির জন্য আমি তাকে টাকা দিয়েছি,” বলেন তিনি।

মাসুদ পুনরায় দাবি করেন,এই হত্যাকাণ্ড জামায়াতের কাজ। আমি বা আমার ছোট ভাই কেউই ওই মোটরসাইকেলে ছিলাম না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে।”এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।

বাংলাদেশের অভিযোগ

এর আগে বাংলাদেশের পুলিশ জানায়, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত—ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ—দেশ ছেড়ে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছেন। বাংলাদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন।

ভারতের অবস্থান

তবে ভারত সরকার এসব অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে ভারতের কোনো সংযোগ নেই। ভারত বলেছে, উগ্রপন্থী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া বয়ান তৈরি করছে।

ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড

শরীফ ওসমান হাদী, যিনি গত বছরের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওসমান হাদী। তার মৃত্যুর পর ঢাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর স্থাপনায় আগুন দেয়। ময়মনসিংহে এক হিন্দু কারখানা শ্রমিককেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এনডিটিভি

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪