| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৮০ শতাংশ প্রজেক্টে কোনো সমীক্ষা নেই: সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ ইং | ২১:২৯:৬:অপরাহ্ন  |  81923 বার পঠিত
৮০ শতাংশ প্রজেক্টে কোনো সমীক্ষা নেই: সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার: বিদেশি প্রজেক্ট ছাড়া ৮০ শতাংশ প্রজেক্টে কোনো সমীক্ষা নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরে ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে ‘আত্ম-অনুসন্ধান’ ও ‘নবীন-প্রবীণ কথোপকথন’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এ বছর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘প্রযুক্তি ও মমতায়, কল্যাণ ও সমতায়; আস্থা আজ সমাজসেবায়’।

তিনি বলেন, আমাদের বড় বড় প্রকল্পগুলো চলছে। দেড় বছর আগে আমি সব প্রকল্পগুলোর সমীক্ষা চেয়েছিলাম। এটা এখনও পাইনি, আমাদের বড় প্রজেক্টে কোনো সমীক্ষা নেই। অতি তাড়াতাড়ি প্রজেক্ট করতে গেলে কীভাবে এটার ফিজিবিলিটি পাবেন। তবে বিদেশি প্রকল্পগুলোতে মনিটরিং পেলাম এগুলোর ফিজিবিলিটি পেলাম। বাকিগুলো এখনও পাইনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা একটা বিশাল গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসেছি, এত বড় ত্যাগ স্বীকার করলো যারা আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের বঞ্চিত না করা, আগামীতে চাকরির প্রতিযোগিতায় সবাই যেন সমান সুযোগ থাকে সেটা নিশ্চিত করা। আমরা মেধার মাধ্যমে সেটা করতে চাই বলেও তিনি জানান।

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মৌলিক জায়গায় ঘাটতি আছে, সিস্টেমের সমস্যা আছে, যেভাবে দেশ চলেছে ৫৪ বছর, এভাবে চলতে পারে না, আমরা শূন্য ভান্ডার পেয়েছি। তবে আমাদের সব ক্ষেত্রে পলিসি পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা যে কাজই হাতে নেবেন সবচাইতে আগে আপনার সমীক্ষা লাগবে এবং আপনার মনিটরিং সিস্টেম লাগবে আপনার যদি মনিটরিং সিস্টেম না থাকে তাহলে আপনি অন্ধের মতো কাজ করে যাবেন কোনো ফল আসবে না। একটা সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম যেখানে দায়বদ্ধতা জবাবদিহিতা আমাদের সিস্টেমের ভেতরেই থাকবে।

নির্মাণের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, নতুন স্থাপনা নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই কোথাও কোথাও ফাটল দেখা গেছে। ভবিষ্যতে সব নির্মাণ চুক্তিতে ১০ বছরের স্ট্রাকচারাল দায়বদ্ধতা যুক্ত করা হবে, যাতে ত্রুটি ধরা পড়লে ঠিকাদার নিজ খরচে সংস্কার করতে বাধ্য থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দেরি হলে আর্থিক জরিমানাও গুনতে হবে।

তিনি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অস্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নেওয়া প্রকল্পে কোনো একক সরবরাহকারী প্রাধান্য পেতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গুণগত মান নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা থেকে বেরিয়ে আসা ১৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি নতুন কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এতে জীবনদক্ষতা, কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি ও শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে, যাতে তারা এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান।

এবারের আয়োজনে গতানুগতিক ধারার বাইরে দুটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব রাখা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল ‘আত্ম-অনুসন্ধান’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেশন, যেখানে সেবামূলক কাজের গভীরতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘যত্নশীল সমাজ: নবীন-প্রবীণ কথোপকথন’। এ পর্বে বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে অভিজ্ঞ প্রবীণদের সেতুবন্ধন তৈরি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। সমাজসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয় এ আয়োজনের মাধ্যমে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪