| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অনলাইনে মানহানি ও ব্ল্যাকমেইল বাড়ছে, ভুক্তভোগীর করণীয় কী

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ইং | ১৯:১৯:০৩:অপরাহ্ন  |  ৬৮৪ বার পঠিত
অনলাইনে মানহানি ও ব্ল্যাকমেইল বাড়ছে, ভুক্তভোগীর করণীয় কী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ডিজিটাল যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে অনলাইনে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া কনটেন্ট, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও বা তথ্য ব্যবহার করে হয়রানি, মানহানি ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেযে। যা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, অডিও, নথি বা গোপন তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ, সুবিধা কিংবা কোনো কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সাধারণভাবে কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি, হুমকি বা মানহানির আশঙ্কা দেখিয়ে অর্থ, সম্পদ, সুবিধা কিংবা অন্য কোনো দাবি আদায়ের অপচেষ্টাকে ব্ল্যাকমেইল বলা হয়। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ছবি বা তথ্য তার অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে মিথ্যা, অপমানজনক বা হয়রানিমূলক বক্তব্য প্রচারের ঘটনাও দেখা যায়। ভুল বোঝাবুঝি বা যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে যৌন হয়রানি কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পোস্ট বা মন্তব্য করা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

প্রমাণ সংরক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ভুক্তভোগীর প্রথম কাজ হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট পোস্ট, কমেন্ট, প্রোফাইল ও অন্যান্য কনটেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করা। এজন্য পোস্টের স্ক্রিনশট নেওয়ার পাশাপাশি পোস্টের লিংক বা ইউআরএল, পোস্টদাতার প্রোফাইলের লিংক এবং প্রাসঙ্গিক কমেন্টগুলো সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

সম্ভব হলে পোস্টের তারিখ, সময়, সংশ্লিষ্ট গ্রুপ বা পেজের নামসহ তথ্যগুলো আলাদা নোট বা ফাইলে সংরক্ষণ করা উচিত। পরবর্তী সময়ে অভিযোগ বা আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্ট

হয়রানিমূলক বা মিথ্যা পোস্টের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। ফেসবুকের ক্ষেত্রে পোস্টের ‘থ্রি-ডট’ মেনু থেকে উপযুক্ত রিপোর্টিং অপশন নির্বাচন করে অভিযোগ জানানো যায়।

পোস্টটি কোনো গ্রুপে প্রকাশিত হলে গ্রুপের অ্যাডমিন বা মডারেটরকেও বিষয়টি জানিয়ে কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে। তবে এ নিয়ে পোস্টদাতা বা অন্য কারও সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় কিংবা পাল্টা হুমকিতে না জড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

আইনগত সহায়তা নেওয়া

অনলাইনে হয়রানি, মানহানি বা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় ভুক্তভোগী নিকটস্থ থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের সঙ্গে সংরক্ষিত ডিজিটাল প্রমাণ, পোস্টের লিংক ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দেওয়া যেতে পারে।

প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সাইবার ইউনিটের সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়।

পাল্টা পোস্ট নয়, সচেতন থাকুন

এ ধরনের ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা পোস্ট, গালাগাল বা হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। এতে বিরোধ আরও বাড়তে পারে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াও জটিল হতে পারে।

একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য, বিশ্বস্ত বন্ধু বা প্রয়োজন হলে আইনজীবীকে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, দুই স্তরের নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনাও নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক।

সাইবার হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় ভয় বা সামাজিক লজ্জার কারণে নীরব না থেকে দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

রিপোটার্স২৪/আরাফাত

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪