| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৭:৩২:অপরাহ্ন  |  82919 বার পঠিত
যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সহযোগিতা না পেলে নতুন করে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর রদ্রিগেজ এ আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করলেন তিনি।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে ‘যৌথ উন্নয়ন’কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী তার সরকার। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় সম্পদ দখলের অবৈধ প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করেছিলেন।

বিবৃতিতে রদ্রিগেজ বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পারস্পরিক উন্নয়নভিত্তিক সহযোগিতার এজেন্ডায় একসঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমাদের জনগণ ও পুরো অঞ্চল শান্তি ও সংলাপ চায়, যুদ্ধ নয়।

ডেলসি রদ্রিগেজ একই সঙ্গে দেশটির তেলমন্ত্রী। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহলে তাকে সবচেয়ে বাস্তববাদী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে প্রকাশ্যে তিনি ও অন্যান্য ভেনেজুয়েলা কর্মকর্তা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছিলেন এবং মাদুরোকেই বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করছিলেন।

এদিকে ট্রাম্প রোববার সাংবাদিকদের জানান, ভেনেজুয়েলা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল খাত উন্মুক্ত করা ও মাদক পাচার বন্ধে সহযোগিতা না করে, তাহলে তিনি নতুন করে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি কলম্বিয়া ও মেক্সিকোতেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন এবং বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার নিজেই ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।

রদ্রিগেজের এই বিবৃতি আসে এমন সময়, যখন নিকোলাস মাদুরোর সোমবার (৬ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে একটি ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এটি রাজনৈতিক নয়; বরং ২০২০ সালে দায়ের করা ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ সংক্রান্ত মামলায় মাদুরোকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য একটি আইনগত পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মাদুরো সিনালোয়া কার্টেল ও ট্রেন দে আরাগুয়ার মতো মাদক চক্রকে সহায়তা দিয়েছেন, কোকেন পাচারের রুট পরিচালনা করেছেন এবং সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে মাদক চালান সুরক্ষিত করেছেন। শনিবার মামলাটি হালনাগাদ করে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও আসামি করা হয়। তিনি অপহরণ ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মাদুরো আটক হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানকে ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চীন এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার এ বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে অবৈধ শাসক হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তবে ট্রাম্প বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকেও ক্ষমতায় বসানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর অপসারণ ভেনেজুয়েলার জন্য নতুন করে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।

একসময় লাতিন আমেরিকার অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা গত দুই দশকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। এর ফলে দেশের প্রতি পাঁচজনের একজন বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছেন যা বিশ্বের অন্যতম বড় অভিবাসন সংকট হিসেবে বিবেচিত।- রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪