ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে গত পাঁচ বছরে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে দেশটির মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতা প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭৫ গিগাওয়াট থেকে প্রায় ৫১০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি—বিশেষ করে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ। গত পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সক্ষমতা ১২২ শতাংশ বেড়ে ৯১.১ গিগাওয়াট থেকে ২০৩.৬ গিগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১১২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা।
জলবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তি যুক্ত করলে, বর্তমানে ভারতের মোট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৬৩ গিগাওয়াট, যা দেশের মোট স্থাপিত সক্ষমতার প্রায় ৫১.৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কয়লা, গ্যাস ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা একই সময়ে তুলনামূলকভাবে কম হারে, মাত্র ৫.৬ শতাংশ বেড়েছে।
নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভারত সর্বোচ্চ বার্ষিক সবুজ জ্বালানি সক্ষমতা যুক্ত করেছে। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৪.৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশ এসেছে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে।
এই সময়ে শুধু সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতাই ৩৫ গিগাওয়াট বেড়ে ১৩২.৯ গিগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ খাতে যুক্ত হয়েছে আরও ৫.৮ গিগাওয়াট, ফলে মোট বায়ু বিদ্যুৎ সক্ষমতা বেড়ে ৫৪ গিগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, গত পাঁচ বছরে ভারতের বৃহৎ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৪৫.৮ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০.৪ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতেও সামান্য অগ্রগতি দেখা গেছে—২০২০ সালের ৬.৮ গিগাওয়াট থেকে ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৮.৮ গিগাওয়াট হয়েছে।
ভারতের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রই জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। পাশাপাশি, নতুন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোও ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব