ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: চাল উৎপাদনে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বে এক নম্বর স্থানে উঠে এসেছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টন চাল উৎপাদন হচ্ছে, যেখানে চীনের উৎপাদন সাড়ে ১৪ কোটি টনের কাছাকাছি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ২৫টি ফসলের মোট ১৮৪টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাতের শস্যদানার অনুমোদনের ঘোষণা দিতে গিয়ে এই তথ্য জানান কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের কৃষিখাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও খাদ্য উৎপাদনে দেশের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন।
শিবরাজ সিংহ চৌহান বলেন, “একসময় যে ভারত খাদ্য ঘাটতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই ভারতই এখন বিশ্বে খাদ্য সরবরাহকারী দেশের ভূমিকায় রয়েছে। চাল উৎপাদনে ভারত এখন চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই অর্জনকে ভারতের জন্য একটি ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’।”
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল রপ্তানি করছে। দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকায় ভারতের খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে নতুন কৃষি আইন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও কৃষক আন্দোলনের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত আইনগুলো প্রত্যাহার করা হয়, যা মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তবে রোববারের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিখাতের উন্নয়নই ছিলো সরকারের মূল লক্ষ্য।
শিবরাজের দাবি অনুযায়ী, ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৯৬৯টি উচ্চফলনশীল শস্যজাত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিপরীতে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের এক দশকেই ৩ হাজার ২৩৬টি উন্নত জাতের শস্যদানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৯৬৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ২০৫টি উচ্চফলনশীল শস্যজাতের অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ধান, গম, ভুট্টা, ডাল ও তৈলবীজসহ বিভিন্ন ফসল।
রোববার যেসব ১৮৪টি নতুন শস্যজাতের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ১২২টি খাদ্যশস্য, ছয়টি ডাল এবং ১৩টি তৈলবীজের জাত। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এসব উন্নত জাত ব্যবহারে কৃষকের উৎপাদন বাড়বে এবং একই সঙ্গে ফসলের গুণগত মান আরও উন্নত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব