রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটে প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ। ফলে ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সামনে জানালেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিরাজুল মাওলা।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংকটের কারণে সারাদেশের প্রায় ১০০০ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করা দায় হয়ে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা দেউলিয়ার দারপ্রান্তে পৌঁছেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানায়। অতিদ্রুত এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং চাহিদা অনুযায়ী অটোগ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এদিকে বাজার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সরকারি মূল্যে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১৩০৬ টাকা হলেও অনেক জায়গায় তা বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, নভেম্বর ২০২৫ সালে এলপিজি আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৫ হাজার মেট্রিক টন, আর ডিসেম্বরেই বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি পেলেও বাজারে এলপিজির সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, এলপিজি পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং কৃত্রিম সংকটের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দামের কারসাজি বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে তৎপর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বর্তমানে এলপিজি অনেক স্থানে বেড়তি মূল্যে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি বহন করতে হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম