রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মোড়কে রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ঐতিহাসিকভাবে নেমে গেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগও সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এডিপি বাস্তবায়ন গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর। এমন মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬ নির্বাচনি বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নির্বাচিত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের সংস্কার থামতে পারবে না। সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে, একীভূত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আমানতকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং স্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার অপরিহার্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে অর্থনৈতিক গতি মন্থর, বিনিয়োগ কমে যাওয়াই প্রধান সমস্যা। বেসরকারি ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, বিদেশি বিনিয়োগও সংকটে। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান কমবে এবং বেকারত্ব বাড়বে, যা দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে।
ড. খাতুন রাজস্ব বাড়াতে কর ব্যবস্থা সংস্কার, অপ্রয়োজনীয় ছাড় বাদ দেওয়া, করদাতাদের উৎসাহিত করা এবং অবৈধ অর্থপাচার রোধের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন কাঠামোগত সমস্যা। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। খাদ্য মজুত ব্যবস্থার সংস্কার, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। ঋণখেলাপি কমাতে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করতে হবে, ব্যাংক রেজুলেশন আইন কার্যকর করতে হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে আনতে হবে।
তিনি জোর দেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তিতে মনোযোগ, ব্যয়বহুল প্রকল্প বন্ধ এবং দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ ছাড়া ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে অর্থনীতির গতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সিপিডি আশা করছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, অর্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হবে এবং সহিংসতা-মুক্ত নির্বাচন হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম