রংপুর প্রতিনিধি : হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তুলনা করে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান।
হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির সঙ্গে রাজনৈতিক কোরবানির তুলনা করে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং কাউনিয়া–পীরগাছা আসনের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী এটিএম আজম খান। তার দেওয়া ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভিডিওটি ধারণ করা হয় গত ৮ জানুয়ারি, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়। ওই সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে এটিএম আজম খানকে বলতে শোনা যায়, “২৮ তারিখ সকাল সাড়ে ছয়টায় কেন্দ্র থেকে মোবাইল করলো আমাকে। বললো, খান সাহেব আপনাকে তো কোরবানি দেওয়া হলো। তখন আমি বললাম, এই কোরবানি কি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ব্যাটা ইসমাইল আলাইহিস সালামের? তখন বললেন, হ্যাঁ, এর চেয়েও বড়।”
তিনি আরও বলেন,“ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মানুষ কোরবানি হয়নি, দুম্বা কোরবানি হয়েছে। আর আপনার কোরবানি বলতে পীরগাছা–কাউনিয়ার লাখ লাখ নারী–পুরুষের কোরবানি। এই জন্যই এই কোরবানিটা বড়। তখন আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ।”
ভিডিওতে এটিএম আজম খানকে আরও বলতে শোনা যায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেওয়া বক্তব্যগুলো প্রয়োজনীয় ছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন,“দুঃখকে শক্তিতে রূপ দিতে হবে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ, আর এই চ্যালেঞ্জে আমাদের টিকে থাকতে হবে।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই এ বক্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমনভাবে উপস্থাপন করাকে অনেকে অনুচিত ও আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, এটিএম আজম খান রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোটগত সমঝোতার কারণে ওই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আখতার হোসেনকে সমর্থন দিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি