| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: হোটেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১১, ২০২৬ ইং | ১৩:৫৬:২৮:অপরাহ্ন  |  27534 বার পঠিত
বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: হোটেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি (১৫) হত্যাকাণ্ডের পেছনে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্য ছিল বলে সন্দেহ করছে তার পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, বাসা ফাঁকা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের মালিকানাধীন হোটেলের এক কর্মচারী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই কর্মচারী পলাতক রয়েছে।এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা সজিব তালুকদার বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের এভিনিউ রোডসংলগ্ন একটি টিনশেড বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজনের ভিড়। ওই বাড়িতেই ফাতেমা আক্তার লিলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িটির সামনেই রয়েছে ‘শাহজালাল হোটেল’, যার মালিক নিহতের বাবা সজিব তালুকদার।

নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি রেডিয়্যান্ট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। সে তার বাবা-মায়ের দুই মেয়ের মধ্যে ছোট। পরিবারের দাবি, হোটেলের কর্মচারী মিলনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

নিহতের বাবা সজিব তালুকদার জানান, পারিবারিক কারণে তিনি হোটেল বন্ধ রেখে পরিবারসহ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাসায় তখন তার দুই মেয়ে ছিলেন। হোটেল বন্ধ থাকায় যাওয়ার আগে কর্মচারী মিলনকে বাসা থেকে খাবার দেওয়ার কথা বলে যান।

তিনি বলেন, শনিবার বিকেল তিনটার দিকে খবর পাই, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

সজিব তালুকদার আরও জানান, মিলন দেড় থেকে দুই মাস আগে আবার হোটেলে কাজে যোগ দেয়। এর আগেও তিন থেকে চার বছর আগে সে এখানে কাজ করেছিল। পুরোনো পরিচয়ের কারণে তার ওপর বিশ্বাস ছিল। মিলনের বাড়ি খুলনা অঞ্চলে বলে জানান তিনি।

নিহতের বড় বোন শোভা বলেন, হোটেল বন্ধ থাকায় মিলন নিয়মিত বাসা থেকে খাবার নিত। শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে খাবার নিতে এলে দেরি হওয়ার কারণে লিলি দরজা না খুলে দরজার নিচ দিয়ে খাবার দেয়।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে মিলন আবার আসে। আমি বাসা থেকে বের হলে সেও বের হয়। কিন্তু পরে আবার সে বাসায় ঢোকে।শোভা জানান, খবর পেয়ে বাসায় ফিরে তিনি তার বোনকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান।

তার অভিযোগ, মিলনই আমার বোনকে হত্যা করেছে। হত্যার পর বাসায় থাকা প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি লিলির মোবাইল ফোনটিও সে নিয়ে যায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথমে মিলন তার বোনের গলায় রশি পেঁচিয়ে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। এরপর ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একজনকে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হোটেলটিতে ভালো বেচাকেনা হতো। মালিকসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় না থাকায় সেই সুযোগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হতে পারে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা বেরিয়ে আসবে।

গত শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের একটি বাসা থেকে রেডিয়্যান্ট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪