| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমেরিকার নাগরিকত্ব আমি পরিত্যাগ করেছি, সন্দেহের কোন অবকাশ নেই: আবদুল আউয়াল মিন্টু

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২১, ২০২৬ ইং | ২০:৩১:০৬:অপরাহ্ন  |  ৭৭৯৭৯৮ বার পঠিত
আমেরিকার নাগরিকত্ব আমি পরিত্যাগ করেছি, সন্দেহের কোন অবকাশ নেই: আবদুল আউয়াল মিন্টু
ছবির ক্যাপশন: দাগনভূঞায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু

দাগনভূঞা প্রতিনিধি:  মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন। তার আইনজীবীর অভিযোগ-আমি দ্বৈত নাগরিক সত্ত্বেও মিথ্যে বলেছি। আমি এ বিষয়ে সহস্রাধিকবার বলেছি যে, হ্যাঁ আমি দ্বৈত নাগরিক ছিলাম। আমার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল, তবে বর্তমানে সেটা আমি পরিত্যাগ করেছি। আমাদের সংবিধানে দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য বিধায় অফিসিয়ালি ১৮ ডিসেম্বর শপথের মধ্য দিয়ে আমার নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে। যদিও আমি হলফনামায় উল্লেখ করেছি ৯ ডিসেম্বর। কারণ সেটা ছিল আবেদনের তারিখ এবং ১৫ ডিসেম্বর কনস্যুলে আমি প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছি। আমেরিকার আইন অনুযায়ী শপথ গ্রহণের পর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। এখন চাইলেও আমি আর ওই দেশের নাগরিকত্ব ফেরত পাবো না। 

তিনি বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় ফেনী-নোয়াখালী সড়কের পাশে তার প্রতিষ্ঠিত দুলামিয়া কটন মিলে দাগনভূঞায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। 

দৈনিক মানবকন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার ও মিন্টুর নির্বাচনী মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক সাংবাদিক সলিম উল্যাহ মেজবাহ’র পরিচালনায় মতবিনিমিয় সভায় তিনি আরো বলেন, তাদের অভিযোগ হল আমার নামে ৭টা অস্ত্র ও হত্যা মামলা রয়েছে যা আমি হলফনামায় গোপন করেছি। এটা ভুল বুঝাবুঝি। আসল বিষয় হল আমাদের আলাইয়ারপুর গ্রামে একজন আছে যার নাম আবদুল আঊয়াল মিয়া, তার বাবার নামও সফি উল্যাহ। পরে আমি কাগজপত্র জমা দেয়ার পর কমিশন নিশ্চিত হয়ে তাদের অভিযোগ থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আপিলের রায়ে আমি এখন বৈধ প্রার্থী, যা আপনারা জানেন। 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, না জেনে এ ধরনের অভিযোগ করা ঠিক নয়। তারপরও আমার তাদের প্রতি কোন অভিযোগ বা মনে কষ্ট নেই। 

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও পরামর্শ নোট শেষে তিনি বলেন,আপনারা দলীয় কোন্দলের কথা বলেছেন কিন্তু কার সঙ্গে কার কোন্দল তা কিন্তু বলেননি, দু-একটা নাম বলেন? ভাইয়ে ভাইয়েও তো কোন্দল হয় কিন্তু আবার একটা সময় সমাধানও হয়। যদি কোন্দল থাকে আমি আশাবাদী তা অচিরেই শেষ হয়ে যাবে। দাগনভূঞার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চাঁদাবাজি ও মাদক। এ বিষয়ে কিন্তু একজন ছাড়া আপনারা কেউ কথা বলেননি। আপনারাও স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করেন। ইনশাআল্লাহ আমার নির্বাচনী এলাকায় এসব থাকবে না। আমি আমাদের তরুণ-যুবকদের সুন্দর ভবিষ্যত নষ্ট হতে দেব না।  

তিনি বলেন, ফেনীতে বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকায় টেকসই উন্নয়ন হবে। আমার বাড়ি দাগনভূঞায়। তাই বলে শুধু দাগনভূঞায় নয়, সোনাগাজীতেও উন্নয়ন হবে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। উনি বিএনপি, কেউ জামায়াত; তিনি আওয়ামী লীগ। এসব বলে বিভাজন করা যাবে না। ঐক্যবদ্ধ হলেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। সবাই সবার জায়গা থেকে ঐক্যবদ্ধ হন।

এক সাংবাদিকের ২৪ প্রসঙ্গে করা প্রশ্নে মিন্টু বলেন, আমাদের কোমলমতি সন্তানরা কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে গিয়ে কিন্তু এখন তারাই আবার কেউ কেউ কোটা চায়। বৈষম্যের কথা বলেন আপনারা? বৈষম্য বহুমাত্রিক। ধরুন সম্পদের বৈষম্য, আয়ের বৈষম্য; সামাজিক বৈষম্য। মনে করেন আমার ছেলে আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে পড়া লেখা করেছে কিন্তু আমার ভাইয়ের ছেলে পড়েছে আলাইয়ারপুরের একটা স্কুলে বা উপজেলার কোন স্কুলে। আবার ধরুন আমার ছেলে অসুস্থ হলে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসা হবে বিদেশে কিন্তু আমার ভাইয়ের ছেলের চিকিৎসা হয় দাগনভূঞায় বড়জোর ফেনীতে। এটাও তো এক ধরণের বৈষম্য। এগুলো রাতারাতি সমাধান হবে না, তবে প্র্যাক্টিস করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষ ১২ হাজার বছর ধরে যেসব সামাজিক হাতিয়ার আবিষ্কার করেছে তন্মেধ্যে প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে নির্বাচন। এ নির্বাচনে সবার প্রতিযোগিতা করার অধিকার আছে, এটা কোন শত্রুতা-বৈরিতার বিষয় নয়। যে যাকে ইচ্ছে যেখানে ইচ্ছে ভোট দেবে। এটা ভোটারদের বিষয়। অতএব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা সঠিক নেতৃত্বের হাতে দেশের দায়িত্ব অর্পিত হওয়া জরুরি। সঠিক নেতৃত্বের হাতে দেশের দায়িত্ব দেয়া হলে শান্তি নিশ্চিত,অন্যথায় নয়। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য শতভাগ পরিবেশ নেই। তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি জানান।

আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, আমাদের দল থেকে বলা হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাকি এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। যদি এমনটা হয় তাহলে ভোটাররা তাদের প্রতিরোধ করুন। ভোট চাওয়ার অধিকার সব প্রার্থীর রয়েছে। কিন্তু এগুলো অনৈতিক, আইন বিরুদ্ধ।

ফেনী নদী শাসন, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, টেকনিক্যাল স্কুল, কটন মিল, শিশু পার্ক ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে আমারও পরিকল্পনা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হই বা না হই আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা তদবির অব্যাহত থাকবে।

তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রশ্নে তিনি বলেন, কই আমি তো কোন নিরাপত্তা নিচ্ছি না। দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান সাহেব রাজনৈতিক ফিগার। তিনি বংশানুক্রমে ভিআইপি পরিবারের সন্তান। প্রয়োজন মাফিক তিনি নিরাপত্তা পাচ্ছেন। দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এটা স্বাভাবিক ঘটনা। 

মতবিনিময় সভায় দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ কামরুল উদ্দিন, সদস্য মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, হামিদুল হক ডিলার, কবির আহম্মদ ডিপলু ও দাগনভূঞায় কর্মরত প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

রিপোটার্স ২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪