রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ তুলে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, ফলে গভীর রাতে চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগের সপ্তম তলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোগীর নাম নাজমা বেগম। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমা বেগমকে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। রোগীর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিব আহমেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাতেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন এবং চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম স্থগিত করেন। এতে জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা বহু রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত রোগীর মরদেহ নতুন ভবন থেকে নিচে নামানো হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পুরো ঘটনা অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরে জানা যায় জরুরি বিভাগের মূল গেট বন্ধ করে দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এ ঘটনায় জড়িত রোগীর কয়েকজন স্বজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম