রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দোজখ, জান্নাত, পৃথিবী কিংবা কাবা—সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। যার মালিক আল্লাহ, সেটি দেওয়ার ক্ষমতা কোনো মানুষের নেই। এককথায়, জান্নাতের টিকিট দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি রাজনৈতিক দল জান্নাতের টিকিট দেওয়ার কথা বলছে। “যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটি দেওয়ার কথা বলা শিরক কি না মানুষকে তা ভাবতে হবে। যার একমাত্র অধিকার আল্লাহর, সেখানে অন্য কেউ মালিকানা দাবি করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই যদি মানুষকে এভাবে ঠকানো হয়, তাহলে নির্বাচনের পরে কীভাবে ঠকানো হবে—তা সহজেই অনুমেয়। শুধু প্রতারণাই নয়, মুসলমানদের শিরকের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে নাউজুবিল্লাহ।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে যাদের ভূমিকার কারণে এ দেশের অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং মা-বোনেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জনগণ তাদের ভূমিকা ভুলে যায়নি।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই কুফরি, হটকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছি, এখন মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, দেশে-বিদেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতেও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।
গত ১৬ বছরে ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিশিরাতের নির্বাচন, ডামি ভোট ও ব্যালট ছিনতাইয়ের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এই সময় বাংলাদেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেওয়া হয়েছিল। এজন্যই তিনি বলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয় সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট করে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে মানুষকে দমন করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
সবশেষে তারেক রহমান বলেন, “লাখো মানুষের এই গণজমায়েতের পেছনে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ রয়েছে। ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামীরা একাত্তরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। ৫ আগস্ট জনগণ আবারও স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম