রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘হ্যাঁ’-এর কোনো একক প্রার্থী নেই। ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী আপনি, আমি আমরা সবাই। কারণ এই ‘হ্যাঁ’ আমাদের উপহার দেবে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বার উন্মুক্ত হবে। শুধু নিজে ভোট দিলেই চলবে না পরিচিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। দেশ বদলাতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত এই জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন বা দুঃশাসন চায় না। জনগণ চায় এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে গুমের ভয় থাকবে না, গায়েবি মামলার আতঙ্ক থাকবে না; যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা এবং যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা জীবন উৎসর্গ করেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার করা হলেও আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি জানান, সে কারণেই সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সেই লক্ষ্যেই গণভোটের আয়োজন।
‘হ্যাঁ’ ভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে আলী রীয়াজ বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনে জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি জানান, গত ১৬ বছরে দেশ থেকে প্রায় সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই লুটপাট বন্ধ করতেই ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মাকসুদ হেলালী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হকসহ অন্যরা। সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম