| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বনানীতে ধানের শীষের মিছিলে বিতর্কিত মুখ, ক্ষুব্ধ ত্যাগী কর্মীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ ইং | ০২:৫৫:২১:পূর্বাহ্ন  |  ৭৭৬৫২৪ বার পঠিত
বনানীতে ধানের শীষের মিছিলে বিতর্কিত মুখ, ক্ষুব্ধ ত্যাগী কর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক দুই নেতাকে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা মিছিলে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন—ফর্মা শহীদ ও সানোয়ার। স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, অতীতে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এসব ব্যক্তি এখন বিএনপির ব্যানারে সক্রিয় হয়ে উঠছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফর্মা শহীদ গোডাউন বস্তি এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তিনি যুবলীগ নেতা ছিলেন এবং বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে সানোয়ার ছিলেন শ্রমিক লীগ নেতা এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুনায়েদ মনিরের ক্যাশিয়ার হিসেবে চাঁদা সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মহাখালী এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে আয়োজিত ধানের শীষের প্রচারণা মিছিলে এই দুই ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বনানী থানা ও আশপাশের এলাকার বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

একাধিক বিএনপি কর্মী বলেন, ১৭ বছর ধরে আমরা মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। এখন সুবিধাবাদীরা এসে জায়গা করে নিচ্ছে—এটা দলের জন্য অশনিসংকেত।

বনানী থানা বিএনপির এক কর্মীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমলে ফর্মা শহীদ ও সানোয়ার বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। বস্তিতে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে তারা চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করত।

বেদে বস্তির বাসিন্দা ফারুক অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় ফর্মা শহীদ তার ওপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছেন। এছাড়া আরও অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি কড়াইল ঝিলের একটি অংশ ভরাট করে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ফর্মা শহীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং এতে স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার মদদ রয়েছে।

কড়াইল বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির টাকায় ফর্মা শহীদকে প্রায়ই মহাখালীর একটি বারের সামনে মাতাল অবস্থায় দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তারা আওয়ামী লীগের পরিচয় আড়াল করে নিজেদের বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দখল-চাঁদাবাজির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তাদের অবৈধ আয়ের একটি অংশ স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাদের কাছে যাচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

এ নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন, কত টাকার বিনিময়ে এই দুই ব্যক্তিকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪