রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মাথাব্যথা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বড় সমস্যা। কারও ক্ষেত্রে এটি মাইগ্রেন, আবার কারও ক্ষেত্রে সাইনোসাইটিস বা স্ট্রেসজনিত হেডেক। তবে তীব্র মাথাব্যথা মানেই যে মাইগ্রেন তা সব সময় সত্য নয়। অনেক সময় মাইগ্রেনের মতো উপসর্গ থাকলেও এর পেছনে অন্য জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে।
মাইগ্রেন মূলত একটি নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, যার প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, এবং আলো ও শব্দের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মাথাব্যথায় ভোগেন, যার মধ্যে মাইগ্রেনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেন নিজে অন্য রোগ তৈরি না করলেও এমন কিছু সমস্যা আছে, যেগুলোর লক্ষণ মাইগ্রেনের সঙ্গে মিল খায় এবং অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে। এই সমস্যা গুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো—
১. স্ট্রোক: হঠাৎ ভয়াবহ মাথাব্যথা
স্ট্রোকের সময় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তনালী ফেটে যাওয়ার কারণে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। এটি প্রাথমিকভাবে মাইগ্রেনের মতো মনে হতে পারে। তবে স্ট্রোকের ব্যথা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়, এবং সঙ্গে থাকে মুখ বা হাত নড়াতে সমস্যা, মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ। মাইগ্রেনের মতো এটি ধীরে ধীরে বাড়ে না।
২. হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্ক
বিশেষ করে অরাসহ মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে। অরা হলো চোখের সামনে আলো ঝলমল করা বা দাগ দেখা। চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেন, মাইগ্রেন ও হৃদরোগের মধ্যে পরোক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে।
৩. খিঁচুনি বা ফোকাল সমস্যা
কিছু ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের অরার লক্ষণ খিঁচুনির সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। যেমন—হঠাৎ বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা অল্প সময়ের জন্য অচেতন ভাব। গবেষকরা মনে করেন, কিছু ধরনের খিঁচুনি ও মাইগ্রেনের মধ্যে জিনগত সম্পর্ক থাকতে পারে।
মাইগ্রেনের মতো মাথাব্যথা থাকলেও হঠাৎ নতুন বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম