রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কখনো কখনো দোয়া কবুল হতে দেরি হতে পারে। তবু মনে কোনো সংশয় রাখা যাবে না। শয়তানের কুমন্ত্রণার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। যদি দোয়াকারী গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে দোয়া দেরিতে কবুল হওয়ার ফলে নিজেকে দোদুল্যমান ভাববে না।
নিচে এমন কিছু দিক তুলে ধরা হলো, যা একজন পাঠকের চিন্তাশক্তি ও দোয়া আরও সুন্দর ও গভীর করতে সাহায্য করবে।
১) ধৈর্য ধারণ করা
মহান আল্লাহ বলেন, “আর আমরা তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমাদের কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৩৫)
কল্যাণে পরীক্ষা হলে শুকরিয়া জানানো এবং মুসিবতে পরীক্ষা হলে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের কর্তব্য। তাই বিপদের সময় দীর্ঘ হলে আরও বেশি ধৈর্য ও বেশি দোয়া করা উচিত।
২) দোয়া দেরিতে কবুল হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা
কখনো কখনো দোয়া কবুল না হওয়ার পেছনে দোয়াকারীর ভুলও থাকতে পারে। যেমন- দোয়ার সময় হারাম বা সন্দেহপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ, অন্তর অমনোযোগী থাকা, কিংবা নিষিদ্ধ পাপাচারে জড়িত থাকা।
তাই দোয়া দেরিতে কবুল হলে নিজের মধ্যে খুঁজে দেখা উচিত দোয়া কবুল হচ্ছে না কেন? আল্লাহর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঠিক আছে কি না?
৩) পাপ বর্জন করা
যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে তার চাওয়া অনুযায়ী দান করেন।
এখানে শুধু পাপই দোয়া কবুলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাকওয়া প্রশান্তির কারণ, যা সব কল্যাণের পথ খুলে দেয়।
মহান আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন এবং ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দেন।” (সূরা তাহরিম, আয়াত ২-৩)
এবং অন্য আয়াতে, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কর্ম সহজ করে দেন।” (সূরা তাহরিম, আয়াত ৪)
৪) আল্লাহর বিশেষ হিকমত অনুধাবনে যত্নবান হওয়া
কেউ কিছু পেলে সেটা হিকমতপূর্ণ, আর কাউকে বঞ্চিত রাখলে তাও হিকমতপূর্ণ। তাই অদৃশ্য হিকমতের অপেক্ষায় আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা এমন বহু কিছু অপছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এবং অনেক কিছু পছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহ সবকিছু জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।” (সূরা বাকারাহ, আয়াত ২১৬)
৫) বান্দার জন্য আল্লাহর পছন্দই উত্তম
আল্লাহ তাআলা শ্রেষ্ঠ বিচারক ও পরম দয়ালু। বান্দার জন্য কোনটা কল্যাণকর, তিনিই বেশি জানেন।
সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেছেন, “আল্লাহ যদি কাউকে কিছু না দেন, সেটাও একটি দান। কারণ তিনি তাকে কৃপণতা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখেন।”
অতএব কখনো কখনো দোয়াকারীর অপছন্দের বিষয়টাই তার জন্য কল্যাণকর হতে পারে।
৬) মানুষ তার কাজের ফলাফল সম্পর্কে অজ্ঞাত
অনেক সময় মানুষ এমন কিছু চায়, যা তার জন্য ক্ষতিকর। যেমন উত্তেজিত শিশু মিষ্টি চায়, কিন্তু সেটা তার ক্ষতির কারণ।
সুতরাং কোনটা কল্যাণকর এটি আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।
মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা এমন বহু কিছু অপছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” (সূরা বাকারাহ, আয়াত ২১৬)
৭) মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত পূর্ণ করা
আল্লাহ চান তাঁর বান্দারা মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত করুক। তিনি তাদের বিভিন্ন মুসিবতে পরীক্ষা করেন—কখনো দোয়া দেরিতে কবুল করানোর মাধ্যমেও।
কারণ দোয়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা পূর্ণতা পেলে বান্দার মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়।
যখন একজন বান্দা যথাযোগ্য ইবাদত বৃদ্ধি করে, তখন তার মর্যাদা ও পূর্ণতা বৃদ্ধি পায়। (উবুদিয়াত লি ইবনু তাইমিয়াহ)
৮) প্রিয় ব্যক্তিদের কাছে কষ্ট আসে
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের দুনিয়ায় কষ্টের সম্মুখীন করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন আল্লাহ কোনো বান্দার মঙ্গল চান, তখন তাকে অতি দ্রুত বিপদ-আপদের সম্মুখীন করেন। আর যখন তিনি কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তখন গুনাহের শাস্তি থেকে বিরত থাকেন।” (তিরমিজি)
৯) দোয়া করে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না
দোয়া কবুল হোক বা না হোক, আল্লাহর কাছে দোয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে মুসলিম দোয়া করে, আল্লাহ তাকে তিনটির মধ্যে একটি দান করেন-
১) কাঙ্ক্ষিত বস্তু দুনিয়ায় দেন,
২) পরকালের জন্য জমা রাখেন,
৩) কোনো অকল্যাণ বা বিপদ-আপদ থেকে দূরে রাখেন।
(মুসনাদ আহমাদ, সহিহুত তারগিব)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সব নেক দোয়া কবুল করুন। আমিন।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা